বাংলাদেশে অর্থনীতি শেষ, শিল্প ধ্বংস, কর্মহীন মানুষ, দেশের আইন – শৃঙ্খলা দুঃস্বপ্নের মতো ফলে বাংলাদেশের মানুষের কাছে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে গত দেড় বছরে বাংলাদেশ পিছিয়ে গেছে কয়েক দশক। মৃতপ্রায় বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এনসিপি, জামাত, হিজবুত, আলকায়দা সহ বাকি সন্ত্রাসী সংগঠন গুলিও খাঁড়ার ঘা দেবে। গত ২০ শে অক্টোবর ইউনূসের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তা হল – ৭ টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৮ হাজার ৮৫০ জন করে ব্যক্তির রিকুর্টমেন্ট ও প্রশিক্ষণ পর্ব চলবে যার প্রথম পর্ব ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এই প্রশিক্ষণে মার্শাল আর্টস, তায়কোয়ানডো, জুডো এবং আগ্নেয়াস্ত্র নির্দেশনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রিকুর্টমেন্ট প্রক্রিয়াটি হবে লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা ও শারীরিক পরীক্ষা এই তিনটি ভাগে। সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যেই অন্তত ৫ টি পর্যায়ক্রমিক ব্যাচের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার সময় রয়েছে। যার প্রত্যেকটিতে ৮ হাজার ৮৫০ জন করে রিকুর্ট থাকবে। অর্থাৎ রিকুর্ট করা হবে মোট প্রায় ৪৫ হাজার জনকে। বাংলাদেশে থানার সংখ্যা ৬৩৯ টি। এরমধ্যে মেট্রোপলিটন মহানগর থানার সংখ্যা ১১০ টি, জেলা পর্যায়ের থানা ৫২৯ টি, রেলওয়ে পুলিশ থানা ২৪ টি। এরমধ্যে রেলওয়ে পুলিশ থানা গুলি বাদ দিলে মোট থানার সংখ্যা ৬১৫ টি। প্রতিটি থানা এলাকাতে ২৫ – ৩৫ বছর বয়সী যুবক ও যুবতীদের রিকুর্ট করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই প্রকল্পে এনসিপি ও জামাত মিলিত ভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে এই দল দুটি জোট বেঁধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। নির্বাচনের ফল নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসতে এই বাহিনী তৈরী করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনার সরকার যে সকল সেনা কর্মীদের বিভিন্ন অপরাধের কারণে বরখাস্ত করেছিল চাকরি থেকে, সাথে সেনার অভ্যন্তরে পাকিস্তানপন্থী হিসেবে যারা পরিচিত ছিল তারাই রয়েছেন এই নতুন রিকুর্টদের প্রশিক্ষকদের ভূমিকায়। এদের নেতৃত্বে আছেন সাবেক জামায়াতি আমির গোলাম আজমের ছেলে সেনাবাহিনীর বরখাস্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লা হিল্লা আমা আজমীর। প্রশিক্ষণ চলছে সরকারি প্রতিষ্ঠান BSKP তে। উদ্বেগের বিষয় হল, এই প্রশিক্ষণে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও তুরস্কের MIT র প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে জড়িত। প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের পর নতুন রিকুর্টদের হাতে যে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দেওয়া হবে সেই সকল অস্ত্রের মূলত তিনটি উৎস।
উৎস গুলি হল, গণ অভ্যুত্থানের সময় থানা লুঠ করে পাওয়া অস্ত্র যার সামান্য অংশ ফেরত গেছিল পুলিশদের কাছে আর বাকি যে অস্ত্রগুলি লুটেরাদের কাছে রাখা ছিল সেগুলি এখন ব্যবহার হবে কেন্দ্রীয়ভাবে। এই ঘটনাই প্রমান করছে জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ – থানা কারা আক্রমণ করেছিল, কারা পুলিশ মেরে ছিল, অস্ত্র কারা লুট করেছিল। পুলিশের কাছ থেকে লুঠ হওয়া ১৪১৯ টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। অস্ত্রের দ্বিতীয় উৎস হল, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে সেফ ডিপোজিট ভল্টে রাখা অত্যাধুনিক বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র লুঠ হয়েছে।
সম্প্রতি, বাংলাদেশের একাধিক জাতীয় সংবাদ মাধ্যম গুলি প্রকাশ করেছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভল্ট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র চুরি হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত এম 4 কার্বায়িন, ব্রাজিলে নির্মিত টোরাস পিস্তল। ১৮ ই অক্টোবর বিমানবন্দরে ঘটে অগ্নিকান্ডে সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে কারা অস্ত্র লুট করেছে তা চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। আসলে চিহ্নত করা গেলেও তারাই তো সরকারে। ফলে সাধারণ মানুষের ধারণা, এটি সরকারের ভিতরে বসে থাকা বড় মাথাদের কাজ।
প্রসঙ্গত, এর আগে বিদেশ সফরে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল লাইসেন্স বিহীন অস্ত্র। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় মামলা দায়ের হওয়ার কথা, জেলে থাকার কথা কিন্তু সেসব কিছুই না হয়ে তিনি চলে গেছিলেন বিদেশে। মনে করা হচ্ছে, থানা লুঠ ও বিমানবন্দরে আগুন ধরিয়ে অস্ত্র লুঠের মাস্টারমাইন্ড এই আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।












Discussion about this post