বাংলাদেশে ভোট হওয়ার কথা আগামী ফেব্রুয়ারি। অন্তত তদারকি সরকার প্রধান মুহম্মদ ইউনূস তেমনটাই জানিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশে পরতে পরতে রাজনৈতিক চিত্রের যে পরিবর্তন ঘটে চলেছে, তাদে নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ দেখা দিয়েছে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে, ইউনূসের এখন লক্ষ্য যেভাবেই হোক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া। কীভাবে রাষ্ট্রপতিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া যায় তার জন্য যমুনার ছুমন্তর ঘরে বসে ছক তৈরি করছেন ‘নোবেল ম্যান ’। ইউনূসের এই বাসনার পিছনে রয়েছে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামানের একটি সিদ্ধান্ত। সেনাপ্রধান সরাসরি ইউনূসকে জানিয়ে দিয়েছেন, বাহিনীর বিষয়ে এবার থেকে রিপোর্ট করা হবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পকে। আর তাতেই তদারকি সরকারের বড়ো কর্তার আঁতে ঘা লেগেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ প্রশাসনের এক কর্তার বিবৃতি উদ্ধৃত করে ভারতের ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সে দেশের দুঁদে আইনজীবী এবং সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ নিজেদের মধ্যে এই নিয়ে শলাপরামর্শ করছেন। তাদের আলোচনার বিষয় যদি সাহাবুদ্দিন চুপ্প বাধ্য হয়ে রাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দেন, সে ক্ষেত্রে কাউকে ওই পদে নিয়োগ করা হলে, সেই নিয়োগের সাংবিধানিক বৈধতাকে কেউ চ্যালেঞ্জ জানাবে না।’
আসলে তদারকি সরকার প্রধানের অনেক দিনের বাসনা তিনি রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসবেন। কিন্তু বাঁধ সেধেছে সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যা পরোক্ষভাবে তৈরি করেছে সাংবিধানিক সংকট। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী পদ খালি। সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় রাষ্ট্রপতিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিলেই হবে না। এমন একটা পদ্ধতিতে সেই পদ দখল করতে হবে, যার সাংবিধানিক বৈধতা থাকবে। কেউ আদালতে এই নিয়ে মামলা করতে পারবে না। সেটা কীভাবে করা যায়, তার জন্য ইউনূস বেশ কয়েকজন আইনজীবী এবং সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করেছন। যাদের কাজ হবে আইনের ফাঁক গলে ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি পদে আসীন করা। এদিকে জেনারেল ওয়াকার আবার আমেরিকা সফরে। ইউনূস চাইছেন, তাঁকে ছাঁটাই করতে। মানে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে। কাজটা মোটেই সহজ নয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বাহিনীর বেশ কয়েকজন প্রাক্তন এবং কর্মরত সেনাদের মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলার শুনানি চলছে। এই নিয়ে বাহিনীর মধ্যে একট অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ইউনূস চাইছেন বাহিনীর যে অংশ সেনাপ্রধানের পাশে নেই, তাদেরকে তিনি কাছে টানার একটা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউনূসকে পিছন থেকে মদত দিচ্ছে জামায়াত। তাদের এই মদতের কারণ রয়েছে। জামায়াতও চাইছে, ইউনূসকে বসিয়ে তারা তাদের আখের গুছিয়ে নিতে।
এদিকে, ভারতের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত জুলাই –অগাস্ট আন্দোলনের পিছনে যে ছাত্রগোষ্ঠীর মস্তিষ্ক কাজ করেছিল, তারাই এবার রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটা ছক তৈরি করেছে। তাঁরা এই দাবিতে পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যে কায়দায় তাঁরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ওবাইদুল হাসানকে তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেছিলেন, সেই একই কায়দায় সাহাবুদ্দিন চুপ্পকে তাঁর পদ থেকে তারা সরিয়ে দিতে চাইছে। অপর দিকে যাকে কেন্দ্র করে এই প্রতিবেদন, তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও চাপের কাছে তিনি মাথা নত করবেন না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post