দক্ষিণ এশিয়ার ক্রমাগত পরিবর্তন হওয়া ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশে প্রধান উপদেষ্টা এখন কার্যত দিশাহীন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতের পুতুল ইউনূস সাহেব ও তাঁর দোসর খলিলুর রহমান কার্যত অসহায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে গিয়ে একটি অপ্রকাশযোগ্য প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এসেছিলেন খলিলুর রহমান। তাও ফাঁস হয়ে গিয়েছিল অচিরেই। জানা গিয়েছিল, ওই চুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশ চিন-রাশিয়ার থেকে কোনও প্রতিরক্ষা সামগ্রী কিনতে পারবে না, কোনও সমঝোতাও করতে পারবে না। কিন্তু আদতে তা হচ্ছে না। কারণ, মার্কিন দাবি মেনে নেওয়ার আগেই বাংলাদেশ ও চিনের মধ্যে নানা প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়ে গিয়েছে। তা গত মার্চ মাসে বেজিং সফরে গিয়েই সেরে এসেছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। কি কি কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে জানা যাচ্ছে। যেমন, চিন থেকে ২০টি জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কেনার কথা জানা গিয়েছিল কয়েকদিন আগে, তেমনই এখন জানা যাচ্ছে এবার চিনের তৈরি এসওয়াই-৪০০ ভূমি-থেকে-ভূমি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনতে চলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার চিনের সঙ্গে আলোচনা করে এসওয়াই-৪০০ মিসাইল সিস্টেম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার স্থানীয় নাম ডিএফ-১২এ। বাংলাদেশের কয়েকটি সরকারি সুত্র উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্য উইক দাবি করেছে, সাম্প্রতিক আমদানি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রতিরক্ষা খাতের প্রয়োজনে বাংলাদেশ যে পরিমাণ সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে, তার ৭০ শতাংশেরও বেশি এসেছে বেজিং থেকে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ৪০০ কিলোমিটার পাল্লা সমন্বিত দূরপাল্লার অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করতে পারে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, সম্প্রতি পাকিস্তানে অপারেশন সিঁদূর চলাকালীন চিনের আকাশ প্রতিরক্ষা সিস্টেম এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মান সম্পর্কে একটা স্যমক ধারণা পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি কতটা কার্যকর ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে তা গোটা বিশ্ব দেখেছে। ফলে বাংলাদেশ যতই চিনের এসওয়াই-৪০০ মিসাইল সিস্টেম বা জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কিনুক, তাতে ভারতের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রসঙ্গত এই মুহূর্তে ভারতীয় সেনার হাতে রাশিয়ার এস-৪০০ এবং দেশীয় প্রযুক্তির সমন্বয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্টই কার্যকর এবং শ্রেষ্ঠ তা প্রমানিত হয়েছে।
চিনের তৈরি এসওয়াই-৪০০ হল একটি রোড-মোবাইল প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল সিস্টেম যা ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার গাইডেড রকেট বা স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম। এটি উচ্চ গতিশীলতার সাথে জিপিএস নির্দেশিত নির্ভুলতার সাথে স্থল-ভিত্তিক বা ভূমি থেকে ভূমি আঘাত হানতে পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের এই ধরণের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রয়োজনীতা কেন পড়ছে? বাংলাদেশ কেবলমাত্র ভারত ও মিয়ানমারের মতো দুটি দেশের সাথে সীমান্ত ভাগ করে। সেহেতু ধরে নেওয়া যায় এই ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র এই দুটি দেশের থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কেনা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতকে লক্ষ্য রেখেই এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ব্যাপারে গ্রীন সিগনাল দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কারণ, বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সেনা যে ভাবে সৈন্য সমাহার করেছে, তাতে কিছুটা হলেও ভীত বাংলাদেশ। এরমধ্যেই অসমর্থিত সূত্রে জানা যাচ্ছে ভারত ইতিমধ্যেই চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর এলাকা সম্প্রসারিত করছে। দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রায় ৬০-৬২ কিমি অংশ ইতিমধ্যেই দখল নিয়েছে ভারতীয় সেনা। এই আবহেই বাংলাদেশ চিনের থেকে আধুনিক গাইডেড মিসাইল সিস্টেম কেনার কথা জানাল। অর্থাৎ বার্তাটি ভারতের জন্য। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, তাহলে কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধুচন্দ্রিমা শেষ হল বাংলাদেশের? কয়েকদিনের মধ্যেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।












Discussion about this post