আগামী ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনার মামলায় সাজা ঘোষণার তারিখ জানাবে। তাঁর সঙ্গেই অভিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান খান কামালও। ফলে তাঁদের সর্বোচ্চ সাজা বা মৃত্যুদণ্ড হয় কিনা সেটা নিয়েই চলছে জল্পনা-কল্পনা। তবে হাল ছাড়তে নারাজ নেত্রী শেথ হাসিনা। তিনি যেমন একের পর এক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, তেমনই বাংলাদেশে নানা কর্মসূচির ঘোষণাও দিচ্ছেন। আবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপুঞ্জের দফতরে চিঠিও দিচ্ছেন আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে। অর্থাৎ, এই বিচারপর্ব ও সাজা নিয়ে শেখ হাসিনা যে খুব একটা চিন্তিত নন সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী।
সূত্রের খবর, দলীয় নেত্রীর চরম সাজা ঘোষণা করা হবে ধরে নিয়েই আওয়ামী লিগ ১০ নভেম্বর থেকে পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টানা কর্মসূচির ঘোষণা করেছে দলটি। আওয়ামী সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০ থেকে ১২ নভেম্বর তিন দিন বাংলাদেশের জেলা, উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ, মিটিং মিছিল হবে। আর ১৩ নভেম্বর সাজা ঘোষণার দিন গোটা ঢাকা শহর লকডাউন পালন করার ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ওইদিন রাজধানীর জনজীবন স্তব্ধ করতে দেশবাসীকে আর্জি জানিয়েছে আওয়ামী লিগের শীর্ষ নেতৃত্ব। অফিস-আদালত হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ সব বন্ধ রেখে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বনধ, হরতাল বা ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার পরিবর্তে সুকৌশলে লকডাউন শব্দটি ব্যবহার করেছে আওয়ামী লীগ। কারণ, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ। তাই বনধ, হরতালের ডাক দিলে তা হতো বেআইনি কার্যক্রম। কিন্তু লকডাউন শব্দটা অরাজনৈতিক, তাই অতি সন্তর্পণে এটাই ব্যবহার করেছে আওয়ামী লীগ। দলীয় স্তরে আওয়ামী লীগ সোশ্যাল মিডিয়া এবং স্থানীয়ভাবে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রচারও চালাচ্ছে, যাতে আাগমী ১৩ তারিখ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছায় নিজেদের গৃহবন্দি করে রেখে অফিস-আদালত হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ সব স্তব্ধ করে দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা ইউনূস সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকার ৫০ শতাংশ সেনাবাহিনী রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে। এই পরিস্তিতিতে যদি আওয়ামী লীগ পথে নামে তাহলে তা সামাল দেওয়ার মতো বাহিনী ইউনূস সরকারের হাতে থাকবে না।
অন্যদিকে ঢাকায় রাষ্ট্রপুঞ্জের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিনিধি স্টেফান লিলারের কাছে সম্প্রতি একটি চিঠি পাঠিয়েছে আওয়ামী লীগ। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যে নির্বাচন হতে চলেছে সেখানে যেন রাষ্ট্রপুঞ্জ সহায়তা না করে। কারণ তা সকলকে নিয়ে হচ্ছে না অর্থাৎ অন্তর্ভুক্তিমূলক নয় ও বিশ্বাসযোগ্য নয়। জানা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের পক্ষে এই চিঠিটি পাঠিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আওয়ামী লীগ এবার স্লগ ওভারের মতো ব্যাটিং করা শুরু করেছে। তাঁরা নানা দিক থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে চেপে ধরতে চাইছে। এর আগে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে লন্ডনের বিখ্যাত এক ল ফার্মের মাধ্যমে দি হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়েছিল। সেই মামলা যে কোনও সময় চালু হতে পারে বলেই মনে করছেন আইনজীবী মহল। তাহলে প্রবল চাপে পড়বেন ইউনূস সাহেব। অন্যদিকে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আইনজীবীদের স্বাধীনতা হরণ ছাড়াও তাদের ওপর দমন-পীড়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার ও আইনজীবী সংগঠন। ফ্রান্সভিত্তিক সংস্থা জাস্টিসমেকারস বাংলাদেশ ইন ফ্রান্সের উদ্যোগে এক যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার ১৫টি সংগঠন বাংলাদেশে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে চলমান নিপীড়নের নিন্দা জানিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে এটা একটা লক্ষণ, এবার সব দিক থেকেই চাপে পড়বেন মুহাম্মদ ইউনূস।












Discussion about this post