বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসকে এবার সরাসরি হুমকি দিয়ে বসলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ভারতের একটি বৈদ্যুতিন মাধ্যমের এডিট- ইন-চিফকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি ‘নোবেল ম্যান’কে একটু বুঝেশুনে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এটাও জানিয়েছে, চিরন্তননীতি হিসেবে ভারত সব প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষপাতি। এটা ভারতের দূর্বলতা নয়। তদারকি সরকার প্রধান কথা বলার আগে যেন চিন্তা করেন। রাজনাথ এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করার ক্ষমতা রাখে। তারপরেও এটা বলা দরকার এই দেশ প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোনওরকম শত্রুতা চায় না। এককথায় রাজনাথ সিং ইউনূসকে বুঝিয়ে দিলেন হয় তাঁকে ভাষা সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। না হলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মোকাবিলা করতে হবে।
ওই বৈদ্যুতিন চ্যানেলের তরফে তাদের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে পাকিস্তান সেনার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা সাহির শামসাদ মির্জাকে দেওয়া ইউনূসের বই উপহারের প্রসঙ্গ। একথা গোটা বিশ্ব থেকে শুরু করে ভেনেজুয়েলার গভীর জঙ্গলে থাকা বাসিন্দারও জেনে গিয়েছে যে ওই বইয়ের প্রচ্ছদে একটি বিকৃত মানচিত্র আঁকা হয়েছে, যে মানচিত্রে দেখানো হয়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি সে দেশের। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক কড়া ভাষায় এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। বৈদ্যুতিন চ্যানেলের দাবি, আসলে ওই বইতে রয়েছে ইউনূস সরকারের ভবিষ্যৎ রণকৌশল। রয়েছে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিকল্পনা। উদ্দেশ্য সেভেন সিস্টার্সকে কবজা করা। বইতে বিশেষ করে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে অসমকে। তদারকি সরকারের প্রবল বাসনা তারা অসমকে উৎপাদনশীল এবং কার্যকর অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার। এমন সময়ে পদ্মাপার থেকে এল আজব খবর। শোনা যাচ্ছে, রাজনাথের এই রাজকীয় হুঙ্কারের পর যমুনা ভবনের বাসিন্দা ড. ইউনূস নাকি শীর্ষাসন করে হাঁটাচলা করছেন। মানে হাত আর মাথা মাটিতে, আর পা উল্টো করে সোজা।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই হুমকি-বার্তা এসেছে পদ্মপারে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনার প্রেক্ষিতে, যে ঘটনায় ড. ইউনূস থেকে শুরু করে তাঁর সব ‘শকুনিরূপী’,‘ধৃতরাষ্ট্ররূপী’ উপদেষ্টারা সাউথব্লককে কাঠগড়ায় তোলার চেষ্টা চালিয়েছেন। খাগড়াছড়ি থেকে শুরু করে অসুরের গোঁফ চুরি, মা কালীর খাঁড়া চুরি, দুর্গোপুজোয় ঢাক চুরি – এমন কোনও ইস্যু বাকি ছিল না যে সব ইস্যুতে যমুনা ভবনের অতি ‘শান্তিপ্রিয়’ মানুষটি গত ১৪ মাস ধরে ভারতকে অশান্তিতে রেখেছে। ভারতের চাপে রাখতে নিয়েছে নানা কৌশল। এ সব করে তারা সাউথব্লক এবং সেনাভবনকে বাধ্য করেছে ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙতে। কিন্তু তারা এটা জানে না যে ফরাক্কার একটা লকগেট খুলে দিলে যমুনাভবন সমেত বাংলাদেশ ডুবে যাবে। সে সব কিছু জানার পরেও ইউনূস কিন্তু ক্ষমতা দখলের কিছুদিন আগে থেকেই ভারত-বিরোধী ধারাবিবরণী দিয়ে চলেছেন।
ভারত কিন্তু এতোদিন কিছু বলেনি। দিল্লি শুধু কড়া নজরদারি চালিয়েছিল। জোগাড় করেছে নথি। তার একটা প্রমাণ সম্প্রতি আমরা পেয়েছি। তবে যেটা সব থেকে উদ্বেগের তা হল বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সখ্য। হাসিনা জমানায় পাকিস্তান ভারতের পশ্চিম সীমান্তকে অশান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে। এবার বাংলাদেশকে বগলদাবা করে পূর্ব সীমান্ত অশান্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের সঙ্গে সামিল বাংলাদেশের তদারকি সরকার।












Discussion about this post