আমরা সকলেই জেনে গিয়েছি ভারতের সঙ্গে আমেরিকা প্রতিরক্ষাখাতে ১০ বছরের একটি চুক্তি করেছে। চুক্তি সই হয়েছে কুয়ালামপুরে। ভারতের তরফ থেকে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। আর আমেরিকার তরফে ছিলেন সে দেশে প্রতিরক্ষা সচিব পিটার হেগসেথ। এই চুক্তি সম্পর্কে পিটার হেগসেথ এক্স –এ জানিয়েছেন, ‘এই চুক্তি ভারত ও আমেরিকার প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি এটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ভিত্তিপ্রস্তর বলে অভিহিত করেন। হেগসেথ আরও বলেন যে এখন দুই দেশ পারস্পরিক সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও বাড়ানোর জন্য কাজ করবে।’ ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই চুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, ‘কুয়ালালামপুরে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সাথে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। এই সময়, দুই দেশ ১০ বছরের ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। রাজনাথ সিং বলেন, এই চুক্তি ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এক নতুন যুগের সূচনা করবে। এটি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন দিকনির্দেশনা ও শক্তি দেবে। তিনি জানান যে এই চুক্তি ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে এবং আগামী দশকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অনেক নতুন সুযোগ তৈরি করবে। ’ প্রশ্ন এখানেই কী এমন হল যার জন্য আমেরিকা ভারতের সঙ্গে ১০ বছরের একটি চুক্তি সই করল। এর কারণ লুকিয়ে রয়েছে অ্যামজনের গভীর জঙ্গলে আর সে খনিজ পদার্থের ভিতরে। টাইম মেশিনে চেপে একবার ঘুরে আসা যাক ভেনেজুয়েলায়। জানার চেষ্টা করি কেন ওয়াশিংটন দিল্লির সঙ্গে প্রতিরক্ষাখাতে চুক্তি সই করল।
আমেরিক অনেকদিন ধরে এই ভেনেজুয়েলাকে কব্জা ফন্দি আটছে। কিন্তু পেরে উঠছে না। কারণ, নিকোলাস মাদুরো মাটির নিচে এমন ভাবে মাইন পুঁতে রেখেছেন যে মার্কিন সাঁজোয়া গাড়ি ভেনেজুয়ালের মাটি স্পর্শ করলেই সেগুলি ফাটতে শুরু করবে। আমেরিকাস সমুদ্র পথে ভেনেজুয়েলার উদ্দেশ্য রণতরী পাঠিয়েছে। কিছুদিন আগে এই সব রণতরীর গতি ছিল অত্যন্ত তীব্র। গতিতে রাশ টানা হয়েছে। টানা হয়েছে পেন্টাগনের নির্দেশে। এদিকে, তারা আবার রাশিয়ার কাছে সাহায্য চেয়েছে। মস্কো সে কারাকাসকে দিয়েছে আত্মঘাতী ড্রোন তুলে দিয়েছে। তুলে দিয়েছে সুখোই যুদ্ধবিমান। বাড়তি উপহার হিসেবে দিয়েছে কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র। KH -31 বিমান বিধ্বংসী বিমান। আমেরিকা তো বটেই, তাদের মিত্রদেশগুলিও এই বিমানকে সমীহ করে চলে। এই বিমান শব্দের চেয়েও ১১ গুন বেশি গতিতে ছুটতে পারে। এটা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। দাবি করা হচ্ছে, এমন কোনও প্রতিরক্ষা প্রতিযুক্তি কোনও দেশ তৈরি করতে পারেনি যে প্রযুক্তিতে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ধরা পড়বে এবং দ্রুত তাকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হবে। বলা হচ্ছে এই ক্ষেপণাস্ত্র যদি সমুদ্রে থাকা কোনও রণতরীর ওপর আঘাত করা হয়, তাহলে সেই রণতরী সমুদ্রের মধ্যেই ডুবে যাবে। এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন কেমন তা, সকলেই জেনে গিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুল্ক হার বাড়িয়ে দেওয়ায় সে দেশের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক অনেকটাই নরমে গরমে। তাই, আমেরিকা এখন কিছুটা হলেও বেশ চাপে। সেই চাপ কপাতে দিল্লির সঙ্গে প্রতিরক্ষাখাতে একপ্রকার সমঝোতা করল। তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল।
হিন্দিতে একটি বহুল প্রচলিত ভোকাল টনিক দিয়ে প্রতিবেদন শেষ করা যাক –
গোলি মারা রামকো, লাগ গায়া ঘনশ্যাম কো। মর গয়া তিওয়াড়ি।
মানে, ভেনেজুয়ালের উদ্দেশ্যে গুলি চালাল পেন্টাগন, লাগল পুতিনের গায়ে, আর মরলেন “তিওয়া়ড়ি” ডোনাল্ড ট্রাম্প।












Discussion about this post