প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শুক্রবার ভারতের একটি বৈদ্যুতিন মাধ্যমে এডিটর ইন চিফকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান ড. ইউনূসকে বুঝে শুনে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, চিরন্তননীতি হিসেবে ভারত সব প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষপাতি। এটা ভারতের দূর্বলতা নয়। ভারত যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করার ক্ষমতা রাখে। তারপরেও এটা বলা দরকার এই দেশ প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোনওরকম শত্রুতা চায় না। এককথায় রাজনাথ সিং ইউনূসকে বুঝিয়ে দিলেন হয় তাঁকে ভাষা সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। না হলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মোকাবিলা করতে হবে। এখন বোঝা যাচ্ছে কেন তিনি এই কড়া বার্তা দিলেন।
রাজনাথ সিং সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন ৭ নভেম্বর। আর ঠিক তাঁর আগের দিন পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কম্যান্ডের লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাম চন্দর তিওয়াড়ি বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন অসমের ধুবরি এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপডা় গিয়েছিলেন। সেখানকার দুটি সেনাশিবির পরিদর্শন করেন। বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। জানিয়ে দেন, তারা যেন দক্ষতার সঙ্গে যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। প্রশ্ন হল, লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেন আচমকাই এই দুটি সেনা শিবির পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিলেন ? এর কারণ বাংলাদেশের অবৈধ সরকারের চিকেন নেক-য়ের ওপর শকুনের দৃষ্টি। আর সে দেশে পাকিস্তান সেনা এবং গুপ্তচর সংস্থার উলম্ফন।
চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর থেকে এই দুই সেনাশিবিরের দূরত্ব কতটা, সেটাও এই ফাঁকে জানিয়ে দেওয়া যাক। ধুবড়ি থেকে এর দূরত্ব ২২২ থেকে ২৪০ কিলোমিটার। আর উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থেকে মাত্র ৫২ কিলোমিটার। বিহারের কিষানগঞ্জেও ভারতীয় সেনার একটি ক্যাম্প রয়েছে। চিকেন নেক থেকে দূরত্ব ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার।
প্রশ্ন উঠতে পারে, এই সেনা শিবিরের জন্য কেন্দ্রকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করতে হয়। সেটা এক টাকা বা দুই টাকা নয়। কিন্তু কেন্দ্রসরকার বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই টাকা খরচ করা ছাড়া কোনও উপায় নেই। আর যা কিছুই হচ্ছে সব কিন্তু ভারতের পূর্বসীমান্তকে কেন্দ্র করে। আমরা দেখেছি বাংলাদেশে একটি অবৈধ সরকার ক্ষমতা দখলের পর পাকিস্তানের দাপাদাপি কতটা বেড়েছে। সেই দাপাদাপি একটা সময় এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে সে দেশের সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্তা দলবল নিয়ে বাংলাদেশ সফর করে। হস্তান্তর করা হয়েছে বেশ কিছু স্পর্শকাতর নথি। এমনকী সীমান্তে পাক গুপ্তচর সংস্থার মদতে তৈরি হয়েছে একাধিক জঙ্গি শিবির। বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের ছক তৈরি করছে পাকিস্তান। সে কারণে, ভারতের সামরিক তৎপরতা আচমকাই বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান সেনার জন্য বাংলাদেশ তাদের দরজা উন্মুক্ত করে দিয়ে আসলে নিজেরাই নিজেদের অনিরাপদ পরিস্থিতির মুখে ফেলে দিয়েছে। ইউনূস সরকার কার্যত পাকিস্তান সেনার পকেটে চলে গিয়েছেন। নিজের দেশে তিনি যে কোনও সময় সেনা-বিদ্রোহের মুখে পড়তে পারেন। এবার পাকিস্তানের বিরোধিতা করলে সে দেশের সেনা এবার তাঁকে বন্দুকের মাথায় বসিয়ে চর্কিপাকের মতো পাক খাওয়াবে। ইউনূসকে যে এখন পাক গুপ্তচর সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাই, ভারত তার সীমান্ত অঞ্চলকে আরও নিশ্ছিদ্র ও নিরাপদ করতে চাইছে।












Discussion about this post