কিছুদিন আগে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দুটি জনমত সমীক্ষা চালায়। প্রথম এবং দ্বিতীয় জনমত সমীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় আসীন হতে চলেছে আওয়ামী লীগ। তাদের দ্বিতীয় জনমত সমীক্ষা রিপোর্টে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের কথা বলা হয়েছিল। তবে আসন সংখ্যা দেখানো হয় ১৭০। তালিকায় দ্বিতীয়স্থানে ছিল বিএনপি। বিএনপিও স্বপ্ন দেখতে শুরু করে যে তারা এবার বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদে বসতে চলেছে। বিদেশ থেকে তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের ক্রমাগত অক্সিজেন জুগিয়েছেন। অনেকে ধরে নিয়েছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখা যাবে তারেক রহমানকে। তারেক নিজেও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
খেলা এখন ঘুরে গিয়েছে। দলের তরফ থেকে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে ২৩৭ জনের। তালিকা অনুসারে, তারেক রহমান লড়বে একটি কেন্দ্র থেকে মা তথা দলনেত্রী খালেদা জিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দুটি কেন্দ্র থেকে। তালিকায় সব থেকে নজরকাড়া বিষয় হল দীর্ঘদিনের সৈনিক রুমিন ফারহানার নাম সেই তালিকায় নেই। টিকিট না পাওয়ায় অনেকেই ক্ষুব্ধ। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বঞ্চিতরা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। অনেকে ইতিমধ্যে জার্সি বদল করে নিয়েছেন।
একটি টেলিভিশন শোতে এই প্রসঙ্গে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার প্রার্থীপদের বিষয়টি হোল্ডে আছে। কারণ, বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে আসন বন্টন নিয়ে আলোচনা চলছে। কারণ, দলের অনেক নেতা-কর্মী রয়েছেন, যারা বিএনপির জন্য জীবন বাজি রেখেছিলেন। তাদের টিকিট দেওয়া নিয়ে দলে আলোচনা চলছে। সেই সব আসনে এমন প্রার্থী দেওয়া হবে, যাঁদের দাঁড় করালে জয় নিশ্চিত। সেই সব নিয়ে আলোচনা যেমন চলছে, চলছে প্রার্থী তালিকা ঝাড়াই বাছাইয়ের কাজ। আমার প্রার্থীপদ এখনও পর্যন্ত হোল্ডে আছে।
ওই টিভি চ্যানেলের তরফ থেকে প্রশ্ন করা হয়, যাঁরা টিকিট পায়নি, তারা তো এখন দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে, নেতৃত্ব সেই পরিস্থিত সামাল দিতে পারছে না। সেই সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহান বলেন, দেখুন বিএনপি একটি বড় দল। সেই দলের সঙ্গে যে সব নেতারা জড়িত তাঁরা টিকিট পাওয়ার আশা করতেই পারেন। এমন অনেক কেন্দ্র রয়েছে, যে কেন্দ্রের টিকিটের দাবিদার না হলেও ১০ থেকে ১২ জন। সেই ১০-১২জনের মধ্যে থেকে বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ফলে, এই ক্ষোভ খুবই স্বাভাবিক। আর একটা কথাও বলা দরকার, এটা কিন্তু প্রাথমিক তালিকা। হয়তো দেখা যাবে চূডা়ন্ত তালিকার সঙ্গে প্রাথমিক তালিকার কোনও মিল নেইষ এটা হতেই পারে।
তালিকা প্রকাশে এতো সময় লাগল কেন, সেই প্রশ্নের জবাবে এই বিএনপি নেত্রী বলেন – প্রার্থী বাছাই নিয়ে আমাদের দলের অ্যাক্টিং চেয়ারপার্সন তারেক রহমান দলের বেশ কয়েকজন প্রথম সারির নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের তরফ থেকে অ্যাক্টিং চেয়ারপার্সনের হাতে একটি তালিকা তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই সব তালিকা থেকে বাছাই একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেটাই প্রকাশ করা হয়।
এই প্রসঙ্গে তিনি বাগেরহাট ২ নম্বর কেন্দ্রের উল্লেখ করেন। রুমিন ফারহানা বলেন, ওই কেন্দ্রের জন্য দলের দাবিদার ছিলেন বেশ কয়েকজন। কিন্তু সবাইকে তো আর টিকিট দেওয়া সম্ভব নয়।











Discussion about this post