মুহম্মদ ইউনূসের সরকার আওয়ামী লীগের সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করেছিল আগেই। ঢাকার অপরাধ ট্রাইবুনালে তাঁর বিরুদ্ধে চলছে একাধিক মামলার শুনানি, যার একটির রায় আগামী সোমবার দেবেন বিচারকরা। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল শেখ হাসিনার দল। মজার ব্যাপার হল শুধু ঢাকা নয়, এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল গোটা বাংলাদেশেই। বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার রাস্তাঘাট ছিল কার্যত ফাঁকা এবং ছুটির মেজাজে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে বাংলাদেশের আমজনতা, প্রত্যেকেই এক বাক্যে স্বীকার করছেন আওয়ামী লীগের ডাকা ঢাকা লকডাউন চুরান্ত সফল। ফলে যারপরনাই ত্রস্ত মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টারা। যেমন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীকে সাংবাদিকরা লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন করতেই রেগে গেলেন। রীতিমতো আঙ্গুল উঁচিয়ে ধমক দিতে দেখা গেল তাঁকে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে কতটা চাপে বাংলাদেশের উপদেষ্টারা।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায়। কিন্তু সেই সময় দুবার পেছোনোর পর অবশেষে তিনি বেলা আড়াইটা নাগাদ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। এ থেকেও বোঝা যাচ্ছ, সবকিছু ঠিকঠাক চলছে না যমুনায়। কারণ, তিনি দিনভর ব্যস্ত থাকলেন ঘনঘন বৈঠকে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার সাত সকালেই অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা সৈয়াদা রিজওয়ানা হাসান এবং আদিলুর রহমান হাজির হয়েছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জেকবসনের দফতরে। জানা যায়, তাঁরা প্রায় ৫০ মিনিট বৈঠক করেন মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে নানা বিষয়ে আলোচনা হলেও মূল যেটা জানা যাচ্ছে সেটা অতি মারাত্মক। জানা যাচ্ছে, ইউনূস সরকারের ১৬ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সেফ এক্সিট চাওয়া হয়েছে মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের কাছে। এই ১৬ জনের মধ্যে যেমন কয়েকজন উপদেষ্টা রয়েছেন, তেমনই কয়েকজন নানা কমিশনের চেয়ারম্যানও রয়েছেন। এই ১৬ জন যাতে বাংলাদেশ থেকে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারেন তার জন্য ট্রেসি অ্যান জেকবসনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন দুই উপদেষ্টা। উল্লেখ্য, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান মার্কিন ঘনিষ্ঠ বলেই জানা যায়। আরও জানা যাচ্ছে, ট্রেসি অ্যান জেকবসনের কাছে দুই উপদেষ্টা জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইউনূস সব পক্ষকে খুশি করতে গিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল করে ফেলেছেন। তিনি এখন সামলাতে পারছেন না। ট্রেসি যাতে ইউনূসকে পরামর্শ দেন, সেই আর্জিও জানিয়েছেন উপদেষ্টারা।
জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত ছিল যমুনা। সেখানে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক ছিল। জানা যাচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় এদিন সকাল থেকেই উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার লেফটান্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসান। যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্যই তিনি কড়া নজরদারি চালিয়েছেন যমুনায়। একটা খবর ছিল সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের একটা চেষ্টা হতে পারে। সেটা আটকাতেই কামরুল হাসান নজরদারি চালিয়েছেন। সবচেয়ে বড় খবর হল, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ইউনূসের জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ নিয়ে একটা রূপরেখা তৈরির আলোচনা হয়। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস নিজের মতো করেই ওই ভাষণ দিয়েছেন। যা নিয়ে উপদেষ্টা ও অন্যান্যদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। আবার জামাত মুহাম্মদ ইউনূসের সিদ্ধান্তে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তাঁরা সেটা প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছে। মনে করা হচ্ছে জামায়তে ইসলামী খুব শীঘ্রই দেশ জুড়ে আন্দোলনে নামতে পারে। আর সেটা সহিংস হলেই বিপদে পড়বেন মুহাম্মদ ইউনূস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, মুহাম্মদ ইউনূসের কফিনে শেষ পেরেক পোতা হয়ে গিয়েছে। তাঁর সময় শেষ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post