শেখ হাসিনাকে সাজা দেওয়ার বেআইনি উদ্যোগের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে তাঁর দল আওয়ামী লীগ। আন্তর্জাতিক আদালত থেকে শুরু করে জাতি সংঘ। আবার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ, চিঠিচাপাটি সবই করছে। আবার বাংলাদেশের মাটিতেও প্রতিবাদ মিছিল, সভা-সহ একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করছে শেখ হাসিনার দল। যেমন বৃহস্পতিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাজা ঘোষণার দিনক্ষণ জানানোর দিনেই ঢাকা লকডাউনের ডাক দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। আর তা যথেষ্ট সফলও হয়েছে। এই সফলতা বুঝিয়ে দিল বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর দোসরদের জনপ্রিয়তা কতটা তলানিতে এসে ঠেকেছে। আর তাতেই দ্বিগুণ উৎসাহিত আওয়ামী নেতৃত্ব। কারণ, ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত টানা চারদিন একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ। অথচ দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা সেভাবে প্রচার করতে পারেননি। যা প্রচার হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু গ্রেফতারি, অত্যাচার ও জুলুমের জুজু কাটিয়ে আওয়ামী সভ্য, সমর্থকরা তিনদিন যেভাবে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে দাপিয়ে বেরিয়েছে, কয়েক হাজার মিছিল, প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে তাতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহন ছিল চোখে পড়ার মতো। আর ১৩ নভেম্বর ঢাকা লকডাউনের দিন দেখা গেল, বাংলাদেশের রাজধানী একেবারেই ফাঁকা। যানবাহন কম, লোকজন-ভিড়ভাট্টা কম, স্কুল-কলেজ-অফিসে হাজিরা কম। একেবারে শান্ত কোলাহল মুক্ত ঢাকা। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ ঘর থেকে বের হননি বৃহস্পতিবার।
এরপরই আওয়ামী লীগের এবার কি পরিকল্পনা তা জানতে কৌতুহল জাগতে শুরু করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে। জানা যাচ্ছে, ঢাকা লকডাউনের সাফল্যে উৎসাহিত শেখ হাসিনা। তাঁর নির্দেশেই এ বার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করল বাংলাদেশের প্রাক্তন শাসক দল। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরানো, ‘অবৈধ’ সরকারের ইস্তফা এবং ‘বেআইনি’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং দলের অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধে আনা ‘ভুয়ো’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে হাসিনার দল এবার আন্দোলনের তেজ বাড়াতে চাইছে। রবিবার থেকে বাংলাদেশ জুড়ে ৪৮ ঘণ্টার ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করল। তবে এবার কেবলমাত্র ঢাকা নয়, সমস্ত বাংলাদেশ জুড়ে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। ১৬ ও ১৭ নভেম্বর এই দুদিন গোটা বাংলাদেশ অচল করতে এবার কোমর বেঁধে নামতে চলেছে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা। যদিও ১৪ ও ১৫ নভেম্বর যথারীতি হাসিনার দলের পক্ষ থেকে একাধিক কর্মসূচি রাখা হয়েছে। যেমনটা ১০ থেকে ১২ নভেম্বর ছিল। অর্থাৎ দু’দিন ধরে সাড়া বাংলাদেশ জুড়ে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ কর্মসূচি চলবে আওয়ামী লীগের।
প্রশ্ন হচ্ছে, আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মসূচি আটকানোর জন্য মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলারক্ষা বাহিনী সর্বদা চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাঁদের থামানো যাচ্ছে না কেন। আবার এই প্রশ্নও উঠছে, কোন সাহসে আওয়ামী লীগ একের পর এক কর্মসূচির ঘোষণা দিচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবস্থান পরিবর্তন এ ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সাহস জুগিয়েছে আওয়ামী লীগকে। ১০ থেকে ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচিতে দেখা গিয়েছে আওয়ামী কর্মী-সমর্থকদের মিছিল, অবরোধ আটকানোর খুব একটা চেষ্টা করেনি সেনা সদস্যরা। অনেক জায়গায় দেখা গিয়েছে সেনাবাহিনীর সামনেই পথ অবরোধ বা মিছিল হয়েছে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে। অর্থাৎ সেনাবাহিনী এবার অন্যপথে হাঁটছে। আর বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে এই কর্মসূচি ঠেকানোর মতো বল নেই। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী সাংবাদিক সম্মেলনে জামাত, বিএনপি, এনসিপির মতো রাজনৈতিক দলের কর্মীদেরও মাঠে নেমে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঠেকানোর আর্জি জানিয়েছিলেন। সেই মতো তাঁরা জায়গায় জায়গায় পিকেটিং করে একটা প্রতিরোধের পরিকল্পনাও করেছিল। কিন্তু জনগণের সম্মিলিত চাপে তাঁদের সরে আসতে হয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের জনগণ এবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, আর সেটাই সাহস জোগাচ্ছে আওয়ামী লীগকে, শেখ হাসিনাকে। তাই আগামী ১৬ ও ১৭ নভেম্বর গোটা বাংলাদেশ জুড়েই সম্পূর্ণ শাটডাউনের ডাক দিল আওয়ামী লীগ। এবার কী করবেন মুহাম্মদ ইউনূস? প্রশ্নটা কিন্তু উঠেই গিয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post