জুলাই সনদের চূড়ান্ত আইনি ভিত্তি দিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। আর তা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে চুরান্ত ডামাডোল। মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, মূলত চারটি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে জনগণ মতামত জানাবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চারটি প্রশ্নের একটি উত্তর হয় না। এটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। যা নিয়ে বাংলাদেশ নতুন করে উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, আগামী সংসদ নির্বাচনের দিনই চারটি বিষয়ের ওপর গণভোট হবে বাংলাদেশে। তবে প্রশ্ন থাকবে একটিই। আর ওই প্রশ্নের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটে মতামত জানাবেন ভোটাররা। জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আগামী সংসদের সদস্য নিয়ে গঠিত হওয়া সংবিধান সংস্কার পরিষদ পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বা সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ অনুযায়ী সাংবিধান সংশোধন করবে। উল্লেথ্য, বৃহস্পতিবারই উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন। তাতে বলা হয়েছে, গণভোটে প্রশ্ন করা হবে– ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এবং সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবে সম্মতি দিচ্ছেন?’ অর্থাৎ এই একটি প্রশ্নই থাকবে গণভোটের ব্যলটে। কিন্তু এই প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে চারটি অতি জটিল সাংবিধানিক বিষয়। যার ওপর নিজেদের মতামত দেবেন বাংলাদেশের কয়েক কোটি ভোটার। প্রশ্ন উঠছে, এত কম সময়ে বাংলাদেশের জনগণকে কে বা কারা চারটি বিষয় সহজ করে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হবেন। কারণ, ইউনূসের দাবি অনুযায়ী যদি ফেব্রুয়ারির প্রথম অধ্যায়েই ভোট হয়, তাহলে হাতে মাত্র আড়াই মাসের সামান্য বেশি সময় রয়েছে। এরমধ্যেই অসংখ্যা কাজ শেষ করতে হবে নির্বাচন কমিশন, অন্তর্বর্তী সরকারকে। আবার কোটি কোটি ভোটারদেরও বুঝিয়ে দিতে হবে চারটি জটিল বিষয়। ঘটনা হল, জুলাই সনদে সংবিধান সংশোধন করতে হবে, এমন ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। যেমন প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সহ আরও গুরুতর সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। জানা যাচ্ছে, ৩০ সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি-সহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। কিন্তু পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি, প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে কমিটির মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগসহ আটটি সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত পোষন করেছে। আবার কোনও কোনও বিষয়ে জামাত বা এনসিপিও ভিন্নমত পোষণ করেছে। এই সবই মাত্র চারটি বিষয় এবং একটি প্রশ্নের মধ্যে গণভোটের ব্যলটে দেওয়া হচ্ছে। যা অত্যন্ত জটিল ও অবৈজ্ঞানিক বলেই দাবি অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষকের।
গণভোটের প্রশ্নে এক ধরনের বিভ্রান্তি যে আছে সেটা সকলেই মেনে নিচ্ছেন। কারণ ৪টি প্রশ্নের সবগুলোতেই যে সবাই একমত হবেন, এমন নয়। হতে পারে কোনও একজনের একটি বা দুটি বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। কিন্তু তাঁর এই দ্বিমত আলাদাভাবে প্রকাশের সুযোগ থাকবে না। ফলে গণভোটে সকলের সমান মতামত আশাও করা যায় না। এছাড়াও গণভোটের অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের কাছে এখনও পরিষ্কার নয়। তাঁদের কৌতুহল কে নিরসন করবেন সেটাও পরিস্কার নয়। ফলে প্রধান উপদেষ্টার বিভ্রান্তিকর ভাষণের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post