বাংলাদেশে এই মুহূর্তে আলোচনার বিষয় দুটি। একটি নির্বাচন এবং অন্যটি শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যেই ১৭ তারিখ শেখ হাসিনার একটি মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এরমধ্যে যে খবরটি হাস্য খোরাকে পরিণত হয়েছে তা হল, একই অপরাধের অভিযোগ তুলে শত শত মামলা দায়ের হয়েছে হাসিনার বিরুদ্ধে। জার্মান একটি পত্রিকায় এমনই একটি খবর সামনে আসতেই আলোচনা শুরু হয়েছে দেশের অন্দরে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, আসলে কি চাইছে ইউনূস সরকার?
জার্মান পত্রকা ডয়চে ভেলে একটি প্রতিবাদেন প্রকাশ করেছে। সেখানে যে তথ্য তুলে ধরেছে তাতে অনেকগুলি প্রশ্ন উঠছে। গত বছর ৫ই আগস্টের পর থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৫৮৩ টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি মামলা হত্যা মামলা। প্রত্যেকটিতে শেখ হাসিনা অভিযুক্ত। অন্যদিকে ৫৮৩ টি মামলার মধ্যে ৩২৪ টি হত্যা মামলা। দুদকের করা মামলা রয়েছে ৭টি। এখন প্রশ্ন উঠছে, জার্মান এই পত্রিকায় যে তথ্য দেওয়া হল, তাতে কি কোনওভাবে অন্তর্বর্তী সরকার বিব্রততে পড়বে না? এই পরিস্থিতিতে কেউ যদি বলে, পুরো বিষয়টা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এই মামলা গুলি করা হয়েছে, তাহলে পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় কি কাঠগড়ায় করে উঠবে না?
এমনকি ওই পত্রিকা বলছে, গত বছর আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে সারাদেশে ১ হাজার ৬০২টি মামলা হয়েছে। এইসব মামলাতে রয়েছে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর-সহ একাধিক অভিযোগ। তার মধ্যে হত্যা মামলা ৫৯৯ টি। আর অন্যান্য মামলা ১ হাজার ৩টি। এছাড়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকা শহরে দেশের থানা এবং নিম্ন আদালতে ৩২৪ হত্যা মামলা এবং মোট ৫৭৬ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর বাইরে যে মামলাগুলো হয়েছে সেগুলো দুদক করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। সেটার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা রায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আইনি লড়াই করেছেন। আমি আশা করি যে তথ্য দিয়েছে তাতে শেখ হাসিনা খালাস পাবে না।
এমনকি তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কি কেউ কোনও যোগাযোগ করেছে? তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। এমনকি তিনি বলেন, তারা কোনোরকম তথ্য সরবরাহ করেনি। অন্যদিকে, আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, যদি কখনও পট পরিবর্তন হয় বাংলাদেশে, আওয়ামী লীগ ফিরে আসে, তবে এই রায় একটিও টিকবে না। যেভাবে ডঃ ইউনুস আসার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মামলা বাতিল হয়ে গেল। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, শেখ হাসিনাকে যেনতেন প্রকারে আসামী বানানোর জন্য প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে এই জার্মান পত্রিকা যে তথ্য তুলে ধরেছে, শত শত মামলা দায়ের করা হয়েছে হাসিনার বিরুদ্ধে, তাতে সাধারণা জনগণ প্রশ্ন তুললে কি জবাব দেবেন মুহাম্মদ ইউনূস, সেই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।












Discussion about this post