বাংলাদেশের চলতি রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনা বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি তিনটি সেনাঘাঁটি তৈরি করেছে। তার মধ্যে একটি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায়। একটি অসমের ধুবড়িতে। অপরটি বিহারের কিশনগঞ্জে। ভারতের শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে এদেশের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলা হয়েছে,সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করা, কৌশলগত দূর্বলতা রোধ করা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এর উদ্দেশ্য। ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে নতুন এই তিন সেনাঘাঁটি নির্মাণের খবর দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর. সি. তিওয়ারি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় নবগঠিত ঘাঁটি পরিদর্শন করেন। এটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেশ কাছেই অবস্থিত। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনাকম্যান্ডের এক্স হ্যান্ডেলেও এই তিন সেনাঘাঁটি নির্মাণের খবর দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে ওই তিন ঘাঁটি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনটি সামরিক ঘাঁটির শীর্ষকর্তাদের প্রস্তুত রাখার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
এক্স হ্যান্ডেলের পোস্ট অনুযায়ী, ‘লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর. সি. তিওয়ারি, আর্মিসিডিআরইসি, চোপড়াডিফেন্সল্যান্ড-এ মোতায়েন ব্রহ্মাস্ত্র কর্পস-এর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও স্বল্প সময়ে ঘাঁটিটি কার্যকর করার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি সর্বোচ্চ পর্যায়ের কার্যতৎপরতা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।’ শিলিগুড়ি করিডোর উত্তরবঙ্গের একটি ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত ভূখণ্ড। এই ভূখণ্ড ভারতের পূর্বের সাতটি অঙ্গরাজ্যকে সংযুক্ত করেছে। করিডোরের চারপাশে রয়েছে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চিন। প্রশ্ন হচ্ছে কেন ভারতের এই সামরিক তৎপরতা?
এর কারণ গেঁথে রয়েছে বাংলাদেশের মাটিতেই। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশের বিদেশ নীতিতে ঘটেছে একাধিক পরিবর্তন। চিনের সঙ্গে সে দেশের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে পাকিস্তানের সঙ্গেও। সম্প্রতি পাকিস্তান সেনার এক পদস্থকর্তার নেতৃত্বে সে দেশের এক সেনাপ্রতিনিধিদল বাংলাদেশ গিয়েছে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পাকিস্তান সেনার ওই প্রতিনিধিদলের হাতে তুলে দিয়েছে বেশ কিছু স্পর্শকাতর এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সেনা ভারতের বিরুদ্ধে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে। ভারতীয় গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা এই পরিস্থিতিকে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন, যা শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তায় বড়ো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, সম্প্রতি ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছিলেন, চিকেন নেককে তিনি একটি শক্তিশালী অঞ্চল হিসেবে দেখেন। কারণ, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, এবং উত্তরপূর্বাঞ্চলের পুরো সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনে একসঙ্গে সেখানে মোতায়েন রাখা হবে। ভারতের প্রতিরক্ষা মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহেন্দ্র রাওয়াত সম্প্রতি বলেন, সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করতে এবং সেনা পরিকাঠামোকে আরও শক্ত এবং পোক্ত করতেই এই তিন সেনাঘাঁটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই তিন সেনাঘাঁটি নির্মাণের আরও একটি উদ্দেশ্য হল এই তিন জেলার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার রঞ্জিত কুমার বরঠাকুর রাখঢাকা না করেই জানিয়েছে, বাংলাদেশের তদারকি সরকারের ভারতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি হল বিদ্বেষমূলক। আর সে দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতার কারণে সীমান্তে ভারতীয় সেনা তাদের নজরদারি বাড়িয়েছে। বলা যেতে পারে, ওই দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা ভারতকে সীমান্তে কড়া নজরদারির জন্য এক প্রকার চাপ তৈরি করেছে। অদূর ভবিষ্যতে সীমান্তের ওপার থেকে হামলা হলে ভারত তার সমুচিত জবাব দেবে।












Discussion about this post