মাথায় বাজ পড়লে কেমন লাগে? এটা তাঁর পক্ষেই বলা সম্ভব যাঁর মাথার ওপর পড়ে। যেমন পড়েছে ইউনূস সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের মাথায়। তাঁকে দিল্লি আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। ডোভাল মানুষটা যে কতটা ভয়ঙ্কর, সেটা গোটা দুনিয়া জেনে গিয়েছে। সেই ভয়ঙ্কর লোকটাই ইউনূস সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে সোনার চামচ আর রূপোর বাটি দিয়ে খাইয়ে দিতে নয়। দিল্লিতে ২০ জুন কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সপ্তম সম্মেলন। এবার এই সম্মেলনের দায়িত্ব পেয়েছে ভারত। সেটা শোনার পর থেকেই না কি খলিলুর রহমানের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করে। শোনা যাচ্ছে আর ডোভাল সাহেবের আমন্ত্রণ পাওয়ার পর থেকে নাকি তাঁর আর মাথা কাজ করছে না। সেটাই স্বাভাবিক। কারণ ডোভাল লোকটা ভয়ঙ্কর। যদিও সরকারিভাবে কিন্তু খলিলুর রহমানের সফরের কথা জানানো হয়নি।
এর আগে একবার ওই ভয়ঙ্কর লোকটার সঙ্গে খলিলুর রহমানের দেখা হয়েছিল ৪ এপ্রিল, ব্যাঙ্ককে বিমস্টেক সম্মেলনে। তারপর কেটে গিয়েছে অষ্টমঙ্গলা। মানে আট মাস পার হয়ে গিয়েছে। এই আট মাসে পদ্মাপারে কী হয়েছে তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। এই অবস্থায় তদারকি সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সম্ভাব্য ভারত সফর বেশ চাপের। মানসিক চাপ। ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খলিলুর সাহেবের সঙ্গে আরও একজনের আসার কথা। কিন্তু তার নাম এখনও জানা যায়নি।
তদারকি সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সম্ভাব্য ভারত সফর কেন চাপের, তা নিয়ে এবার দু-চার কথা। প্রথমত বাংলাদেশের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যা ইউনূসের কাছে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। তারা আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার কম চেষ্টা করেনি। উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে সে দেশের ঘনিষ্ঠতা। এই ঘনিষ্ঠতাকে দিল্লি একেবারেই ভালো চোখে দেখছে না। বিশেষ করে পাকিস্তান সেনার ‘জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান’ শাহির সামসাদ মির্জার বাংলাদেশ সফর। তার ফিরে আসার পর বাংলাদেশ যান পাক নৌপ্রধান নাভিদ আশরাফ। আর পাক সেনার মেজ-সেজ কর্তাদের বাংলাদেশ যাওয়া তো লেগেই ছিল। মন কেমন করলেই তারা বাংলাদেশ চলে যেতেন। পদ্মার হাওয়া খেয়ে চাঙ্গা হয়ে আবার দেশে ফেরা। কিন্তু পদ্মার হাওয়ায় নাকি সাউথব্লকের ক্ষোভের বারুদের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
সূত্রের খবর, অজিত ডোভালের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে খলিলুর রহমানের । বৈঠকে জেমস বন্ড তাঁকে (খলিলুর রহমানকে) মিষ্টি মিষ্টি করে জানিয়ে দেবেন। আর লালকেল্লার বিস্ফোরণ তো সেই চাপকে আরও মারাত্মক করে তুলেছে। শুরুতে বলা হয়েছিল মাথায় বাজ পড়ার কথা। ইউনূসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মাথায় আক্ষরিক অর্থেই বাজ পড়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি বেশ কয়েকবার কাতার গিয়েছিলেন। অনেকটাই সেই ট্রেনের ডেইলি প্যাসেঞ্জারের মতো।
এদিকে উত্তরপাড়ায় তাঁর আবার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা পড়ে গিয়েছে। আরাকান আর্মির জন্য তিনি উদার হওয়ায় সেনাপ্রধান ওয়াকার তাঁর বাড়ির সদর দরজায় ঝুলিয়ে রেখেন নো এন্ট্রি বোর্ড। ফলে, এত চাপ নিয়ে তিনি দিল্লি আসবেন। আসবেন তো, না কি তিনিও সেনাপ্রধান ওয়াকারের মতো শেষ মুহূর্তে সফর স্থগিত রাখবেন ?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post