কেল্লা-কাণ্ডের তদন্তে নেমে জাতীয় তদন্ত সংস্থার হাতে যে সব সব তথ্য উঠে আসছে, তা মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। কার্যত গোয়েন্দারাও ওই সব তথ্য দেখে যুগপৎ বিস্মিত। এই সব তথ্য মনে করায় বাংলার এই প্রবাদ – কোথায় শিবের বাড়ি আর কোথায় টিক্কার হাঁড়ি। কেল্লা কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে তুরস্ক, বাংলাদেশ, দুবাই আফগানিস্তানের। গোয়েন্দারা এই নেট ওয়ার্ককে বলছেন, ‘তুরস্ক-বাংলাদেশ হোয়াইট কালার নেটওয়ার্ক’।
এবার দিল্লি-কাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে গেল এবার ইন্টারপোল। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪-য়ে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হয় ভারত। কারণ ছিল দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবায় ভূয়ো ফোনের উৎপাতে ব্যহত হওয়া। গত বছর ১৭ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর – এই সময়ের মধ্যে শুধু ভুয়ো ফোন এসেছে ৪০০ বার। তার পিছনে উস্কানি ছিল শিখ ফর জাস্টিসের। সংগঠনের তরফ থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান পরিষেবা বয়কটের ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু কোনও সন্ত্রাসী হামলায় ভারত এখনও ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হয়নি। সাউথব্লককে শেষ পর্যন্ত তাদের সাহায্য চাইতে হল। কিন্তু কেন?
দিল্লি-কাণ্ডের তদন্ত নেমে বেশ কয়েকটি নাম উঠে এসেছে। সেই নামের একটি ড. মুজাফ্ফর। পুলিশের জালে ধরা পড়া ড. আদিল আহমেদের ভাই হয় ড. মুজাফ্ফর। নানা প্রান্তে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে কেল্লা-কাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই আটজনের মধ্যে সাতজনেই কাশ্মীরের। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সন্ত্রাসী হামলার নীল নকশা তৈরি হয়েছিল ২০২১-য়ে তুরস্কে। হামলার জড়িত যে সব ডাক্তারের নাম উঠে আসছে, তারা ওই বছর তুরস্ক গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে এই মুজাফ্ফরও রয়েছে। তিন ডাক্তার তুরস্কে ছিলেন টানা ২১ দিন। মুজাফফরের সঙ্গে তুরস্ক যায় ড. মুজাম্মেল এবং উমর নবি।
পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে ড. মুজাফ্ফর গত অগাস্টেই দুবাই পালায়। ততদিনে অবশ্য কেল্লায় বিস্ফোরণের ছক তৈরি। ভারতের কোনও কোনও গণমাধ্যম বলছে, ঘাতক ডাক্তার মুজাফ্ফর আফগানিস্তানেও আত্মগোপন করে থাকতে পারেন। তবে সে যে ভারতে নেই সেটা গোয়েন্দাদের কাছে পরিষ্কার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জম্মু-কাশ্মীর গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্তা জানিয়েছে, রাজ্য সরকার সরাসরি ইন্টারপোলের সাহায্য চাইতে পারে না। তাকে ভারত সরকারের মাধ্যমে ইন্টারপোলের সাহায্য চাইতে হবে। সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইন্টারপোলের সাহায্য চেয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে। জম্মু-কাশ্মীরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাকিনা ইট্টু জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। তদন্ত যেভাবে এগোবে সেই ভাবে রাজ্য সরকার রিপোর্ট প্রকাশ করবে।
কেল্লা-কাণ্ডে বড় ঝামেলায় পড়ে গিয়েছেন ইউনূস। কারণ, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শাহিন নামে এক মহিলা ডাক্তারকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সে আবার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা ডাক্তার। তার সঙ্গে আবার পরিচয় হয় মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়ার। এরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মহিলাদের একটি জঙ্গি উইং তৈরি করার। টার্গেট ছিল সমাজের পিছিয়ে থাকা মহিলাদের মগজ ধোলাই করে তাদের জিহাদি কারবারে উদ্বুদ্ধ করা।
এটা ঠিক যে ভারত এখনও কিন্তু সরাসরিভাবে জানায়নি যে কেল্লা-কাণ্ডে বাংলাদেশ জড়িত বা বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করা হয়েছিল। যেদিন সেই ঘোষণা দেওয়ার মতো পাকাপোক্ত প্রমাণ ভারত পাবে, সেদিন উত্তরপাড়া আর যমুনা ভবনের যে কী হবে আর কী হবে না, তা সময় বলে দেবে। রাজনাথ সিংয়ের ‘ঘুসকে মারেঙ্গের’ হাতে-কলম রূপ দেখবে না ঢাকা?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post