ইউনুস সরকার এত বাধা সৃষ্টি করেও থামাতে পারেনি আওয়ামীলীগের কর্মসূচি। সাফল্যের সাথে জয়ের হাসি হেসেছেন হাসিনা। ১৩ ই নভেম্বর আওয়ামীলীগের ডাকা লকডাউনে বাংলাদেশের মানুষ সাড়া দিয়েছে। ফলে ঘুম উড়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার মহম্মদ ইউনূসের। ১৩ তারিখ লকডাউনে সাড়া দেওয়াটা বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটা ট্রেলার ছিল মাত্র। বাংলাদেশের জনগণ চাইলে আরও অনেক বেশি কিছু করে দেখাতে পারে।
লকডাউন কর্মসূচি সফল হওয়ার পর আগামী ১৬ ও ১৭ ই নভেম্বর আওয়ামীলীগের তরফ থেকে ডাক দেওয়া হয়েছে শাটডাউন কর্মসূচির। লকডাউনের মতো শাটডাউন এও জনজীবন স্তব্ধ রেখে, বাড়িতে বসে থেকে, স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত করে ও অচল করেন দিয়ে আগামী ১৭ ই নভেম্বর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে রায় ঘোষিত হতে যাচ্ছে তার প্রতিবাদ জানাতে আওয়ামীলীগ জনগণের প্রতি আবেদন জানিয়েছে। আওয়ামীলীগের তরফে একবার বলা হয়নি যে তারা সারা দেশে মিছিল – মিটিং করবে, তারা এও বলছেনা যে তাদের নেতা – কর্মী – সমর্থকেরা বড় কোনও সমাবেশ ঘটাবে। কিন্তু তারা আশা করছে জনগণ তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ওই দুই দিন ব্যাহত রেখে বাড়িতে বসে প্রতিবাদ জানাক।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সরকার আতঙ্কিত হয়ে বহু পরিমান পুলিশের সাথে ভারতের সীমান্ত প্রহরার কাজ থেকে বিজিবি কে সরিয়ে ঢাকার আশপাশের নানান জায়গায় মোতায়েন করেছে। সাথে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আওয়ামীলীগ বলে যাকেই সন্দেহ হবে তাকেই গ্রেফতার করতে হবে। বিজিবি ও পুলিশের তরফেও যাকেই সন্দেহ হচ্ছে তাকেই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এসবের ফলে দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছেন বড় হেনস্তার মধ্যে। আইনশৃংখলা বাহিনীর এই ঝুঁকির মুখে পরে তাদের পক্ষে আইন – শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এ আবহেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাদের মিত্র রাজনৈতিক দল গুলিকে বলেছিলেন তারাও যেন আওয়ামীলীগের কার্যক্রম প্রতিরোধ করতে রাজপথে নামে। এই মব বাহিনী যথারীতি ১২ তারিখ পর্যন্ত রাজপথে ছিলেন। ১৩ তারিখ ঢাকার নানান মহা সড়ক তারা অবরোধ করে রেখেছিল। তারা ভাঙা আওয়ামীলীগের কার্যালয় আবার গিয়ে ভেঙেছে, নানা জায়গায় শো ডাউন করেছে, ককটেল ফাটিয়েছে, বাসে আগুন ধরিয়েছে, বুলডোজার দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙার চেষ্টা করেছে, ডাকসু, ভিপি সাদেক কায়েম থেকে শুরু করে ছাত্র শিবিরের নেত্রীবৃন্দ ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে ঘুরেছে যাতে কাউকে আওয়ামীলীগ সন্দেহ হলেই তাকে ধরে মারধর করবেন বলে। এমনকি এক রিকশাওয়ালাকে আওয়ামীলীগ সন্দেহে তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। এক তরুণী এক মহিলাকে আওয়ামীলীগ সন্দেহে লাঠি হাতে পিটিয়েছেন। ফলে এই নিরাপত্তাহীনতা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।
সরকার ও বিএনপি, জামাত শিবির ও এনসিপির তরফ থেকে মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রা বন্ধ করে তুলছে। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামীলীগ তাদের কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেছে। সরকার ও তার মিত্রদের আতঙ্ক দেখে আওয়ামীলীগ আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।












Discussion about this post