হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। সাজা ঘোষণা হয়ে গিয়েছে তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে। প্রাক্তন পুলিশ কর্তা চৌধুরী আবদুল্লা আল মামুনের পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছে আদালত। শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান, দুই জনেই বর্তমানে বাংলাদেশের বাইরে রয়েছেন। সে কারণে তাঁরা সাজা ঘোষণার পরে আপিল করতে পারবেন না বলে জানাচ্ছেন আইনজীবীরা। কারণ আপিল করা বা রায়কে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে হয় এবং রায়দানের ৩০ দিনের মধ্যে করতে হয় আপিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে ধৃতকে আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রশ্ন হল, হাসিনাকে কি দিল্লি বাংলাদেশের হাতে তুলে দেব। হাসিনার বিরুদ্ধে মূলত তিনটি অভিযোগ উঠেছে। হত্যা উস্কানি দেওয়া, হত্যার নির্দেশ দেওয়া, দমনপীড়ন ঠেকাতে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় রাখা। এই তিনি অভিযোগের শাস্তি হিসেবে ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মৃত্যু দণ্ড দিয়েছে আইসিটি।
এই রায় প্রসঙ্গে ঢাকার তরফ থেকে বলা হয়েছে, আইসিটি-য়ের রায় স্বীকৃত রায়। তাই, দিল্লি হাসিনাকে তাদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য থাকবে। এই প্রসঙ্গে গত ৭ অক্টোবর ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর বক্তব্যটি তুলে ধরা যেতে পারে। বাংলাদেশ থেকে ঢাকায় এসেছিলেন সে দেশের সাংবাদকিদের এক প্রতিনিধিদল। তারা বিদেশ সচিবের সঙ্গে দেখা করেন। স্বাভাবিকভাবে হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি বিচার বিভাগীয় এবং আইনি প্রক্রিয়া। এর জন্য দু’দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা এবং পরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং এই বিষয়গুলি নিয়ে আমরা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও একসঙ্গে কাজ করার জন্য তৈরি। এই মুহূর্তে এর বাইরে আর কোনও মন্তব্য করা গঠনমূলক বলে আমি মনে করি না।’
তবে রায় ঘোষণার পরে পরে হাসিনাকে ফেরাতে ঢাকা থেকে দিল্লিকে লাগাতার চাপ দেওয়া চলছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শংকরের দফতর একটি বিবৃতি জারি করে। ভারতের তরফে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ঘিরে সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে,’ ভারত নজর রেখেছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের তরফে শেখ হাসিনাকে দেওয়া রায়ের দিকে। ভারত, বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ , যার মধ্যে রয়েছে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতা।’বিবৃতির শেষে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে ভারত সরকারকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা। বলা হয়, ‘দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে’ এটি ভারতের অবশ্যই পালন করা দায়িত্ব। ঢাকা বলছে ভারতের সামনে কোনও বিকল্প নেই।
যদি দুই দেশের মধ্যে হওয়া প্রত্যর্পণ চুক্তির এক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনও বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয় বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে তাহলে ভারত / বাংলাদেশ কাউকে ফেরাতে বাধ্য নয়। ’ ভারতীয় কূটনীতিকরা বলছেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, শঙ্কাজনক নিরাপত্তা পরিবেশ এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সরাসরি জীবনের ঝুঁকি এই যুক্তিগুলি ভারতের ক্ষেত্রে ঢাল হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের মত, ভারত হাসিনার প্রকৃত বন্ধু। তাই, বাংলাদেশের উত্তপ্ত পরিস্থিতির নিরিখে সাউথব্লক কখনই মুজিব কন্যাকে পদ্মাপারের হায়নার খাদ্য করে দেবে না।












Discussion about this post