ক্যাঙারু কোর্ট হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিলে বাংলাদেশে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তার একটা আশঙ্কা সকলের মধ্যেই ছিল। সেই আশঙ্কা সত্যি হল। বাংলাদেশ কার্যত গৃহযু্দ্ধে জড়িয়ে গেল। রবিবার রাত থেকে যে অশান্তির আগুন ধিকধিক করে জ্বলছিল, সোমবার রায় ঘোষণার পরে সেই আগুন দাবানলের মতো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী ও গণহত্যা মামলার রায় ঘিরে সারা দেশে অঘোষিত হাই অ্যালার্ট জারি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নাশকতাকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ঢাকাসহ সারা দেশে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট, ট্রাইব্যুনালে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা আরও কঠোর করেছে। বিশেষ করে দিল্লিকাণ্ডের প্রেক্ষিতে সাউথব্লক নিরাপত্তায় সামান্য আলগা রাখতে চাইছে না। কেল্লা-কাণ্ডে যে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা ষোলো আনার ওপর আঠারো আনা খাঁটি। আর
তদন্তকারী সূত্রগুলো জানিয়েছে, নভেম্বরের শুরুতে উমর পুলওয়ামার বাড়িতে যান এবং সেখান থেকে ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর কর্মস্থলে ফেরার আগে দু’টি ফোনের মধ্যে একটি ভাইকে দিয়ে আসেন। এরপর উমরের ভাই একে একে তাঁর সহকর্মীদের গ্রেফতারের খবর পান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, সব রাজ্যের প্রতিটি সীমান্তে কড়া নজরদারি চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কারও গতিবিধি সন্দেহজনক হলে তাকে জেরা করে সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া গেলেই তবে তাকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ধানমন্ডি নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠেছে। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এরা রাজাকার জঙ্গি। আগে থেকেই এরা ঠিক করে রেখেছিল, রায় ঘোষণার পরে পরেই তার ধানমন্ডি চড়াও হবে। আর ঠিক সেটাই হয়েছে। শয়ে শয়ে লোক ধানমন্ডিতে মুজিবের বাড়ির ওপর চড়াও হয়। শুরু করে ভাঙচুর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গণ্ডগোল এবং দেশে গৃহযুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘সর্বশেষে তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গণ্ডগোল লাগানোর চেষ্টা করেছেন। সেনাবাহিনীকে উসকে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। সেনাবাহিনীকে বলার চেষ্টা করেছেন, তোমাদের অফিসারদের বিচার হয়, তোমরা কেন রুখে দাঁড়াচ্ছ না? রাষ্ট্রের মধ্যে একটা সিভিল ওয়ার (গৃহযুদ্ধ) লাগানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী সেই পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। দেশের জনগণ সেই ফাঁদে পা দেয়নি।’ শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘এ রকম নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ, পুরো প্রজন্মকে হত্যার চেষ্টা, ৩৫ হাজার মানুষকে আহত করা, অঙ্গহানি করা—এর পরও সামান্যতম অনুশোচনা না থাকা। এখানে শিশু ছিল, নারী ছিল, মজুর ছিল, ছাত্র ছিল, তাদের হত্যা করতে তার বুক কাঁপেনি। এখন পর্যন্ত তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। সুতরাং সর্বোচ্চ শাস্তিটা তার অবশ্যই প্রাপ্য।’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post