বাংলাদেশে ক্যাঙারু আদালতে ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামালের বিরুদ্ধে কী সাজা দিয়েছ, তা আমাদের সকলের জানা হয়ে গিয়েছে। এই রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জাতিসঙ্ঘ। রায়কে তারা ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ বলে মন্তব্য করলেও হাসিনার ফাঁসির সাজায় তাদের প্রবল আপত্তি রয়েছে। রায় ঘোষণার দিন রাতে তাদের মানবাধিকার সংগঠনের মুখপাত্র রবিন শামদাসানি একটি বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, ‘এই রায় বাংলাদেশের গত বছরের বিক্ষোভের সময়ে দমন পীড়নের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ’ রবিন শামসাদানি মৃত্যুদণ্ডের রায়ের জন্য আমরা দুঃখপ্রকাশ করছি। আমরা সব পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করি।
প্রশ্ন হল হাসিনার রায়ের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি কী হতে পারে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা কলকাতায় বৈঠক করেন। বৈঠক হয়েছে রায় ঘোষণার দিন। তবে কলকাতার কোথায় তাদের বৈঠক হয়েছে, প্রতিবেদনে তার উল্লেখ নেই। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘আওয়ামী নেতাজ ইন এক্সাইল প্ল্যান স্টির ইন একজাইল।’ দলের প্রবীণ নেতা ওবেইদুল কাদির জানিয়েছেন, ‘বিচারের নামে প্রহসন হয়েছে। এই আদালতের কোনও বৈধতা নেই। এই মামলায় তোলা অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। আসলে আমাদের নেত্রী যাতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন, তার জন্য এই ব্যবস্থা। ’ ওবেইদুল কাদির আরও বলেন, ‘আমরা এই রায় মানছি না। আর আমার এই রায় নিয়ে অবাক হয়নি। বাংলাদেশের সরকার জনগণের অনুভূতিকে ভয় পাচ্ছে। এই রায় আসলে বিরোধীদের দমিয়ে রাখতে চাইছে। চাইছেত তাদের কণ্ঠরোধ করতে। কিন্তু তারা কোনওভাবেই সফল হবে না। কারণ, মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েছে। ’
কলকাতায় দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘এরকমটা যে হবে, সেটা আমরা আগেই জানতাম। ৫ অগাস্টের পরে এই সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল। ইউনূস সরকার হাসিনাকে রাজনৈতিক জীবন শেষ করতে চাইছে। আর সেটা করতে তাদের হাতিয়ার বিচারবিভাগ। ’ কর্তাটি আরও বলেন, প্রথমত এই আদালতের কোনও বৈধতা নেই। তাছাড়া দলের তরফ থেকে হাসিনার জন্য যে সব আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল, আদালতে তাদের সওয়াল করতে দেওয়া হয়নি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনিই আদালতে ছিলেন না। তাছা়ডা বিচার হয়েছে এক তরফা। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আমাদের নেত্রীকে দেওয়া হয়নি। আর এই আদালতে গঠন প্রক্রিয়াই তো প্রশ্নের মুখে। ’ ওই নেতা আরও জানিয়েছে, ‘দলের তরফ থেকে হাসিনার সঙ্গে আমরা কথা বলব। চাইব যমুনাভবন লং মার্চের অনুমতি। আমরা যে কোনও মূল্য দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে বদ্ধপরিকর।’
বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল নিশ্চিত ছিল, হাসিনাকে এই ক্যাঙারু কোর্ট মৃত্যুদণ্ড দেবে। আর আওয়ামী লীগ সেই রায়ের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ আন্দোলন আরও জোরদার করবে। ফলে, আগামীদিনে বাংলাদেশ আরও একবার অশান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা সব মহলেই। তবে আরও একটা আশঙ্কা ঘোরাঘুরি করছে। সেটা হল এই সুযোগে বাংলাদেশের মৌলবাদী শক্তি রাস্তায় নেমে আওয়ামী লীগকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করবে না তো? সেই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।












Discussion about this post