সীমান্তে ভারতের নজরদারি বরাবরই কড়া। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়া ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে সীমান্তে নিরাপত্তা আরও কঠোর করেছে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোরে। ২০০৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত কেন্দ্রের কাছে সেনার তরফ থেকে যে রুটিন রিপোর্টে দাখিল করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে এই চিকেন নেক বেশ স্পর্শকাতর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। কেল্লাকাণ্ডে বাংলাদেশের নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আর চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে না নারাজ। সীমান্তে কড়া নজরদারি তার অন্যতম কারণ। যদিও ঢাকার তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিযোগ ভিত্তিহীন। সে দেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সুযোগ পেলেই ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশের ওপর দোষ চাপায়। লালকেল্লার হামলার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও সম্পর্ক নেই।’ পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মতে, ভারতীয় গণমাধ্যমের এমন মনগড়া ও দায়সাড়া প্রতিবেদন দু’দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয়। বাংলাদেশ বরাবরই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেছে। তাদের এই বিবৃতিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক গুরুত্ব দিতে নারাজ। কারণ, জাতীয় তদন্ত সংস্থার তরফে কেল্লাকাণ্ড নিয়ে সরকারের ঘরে যে রিপোর্ট জমা পড়েছে, তাতে পরিষ্কার বলা হয়েছে পাক-জঙ্গিরা বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়েছে। সীমান্তে কড়া নজরদারির সেটা যেমন একটা কারণ। কারণ রয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠতা। ঢাকার সঙ্গে বেজিংয়ের এই সখ্যতাকে সাউথব্লক খুব ভালোভাবে দেখছে না।
এবার আলোচনা করা যাক সীমান্তে কড়া নজরদারির বাকি কারণ নিয়ে। শিলিগুড়ি করিডোরের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে সেভেন সিস্টার্স। তাই এই করিডোর কোনও কারণে ক্লোজড হলে উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্যের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। একে ঘিরে রয়েছে চারটি দেশ – বাংলাদেশ, নেপাল, ভূটান এবং চিন। এই চারটি দেশের মধ্যে ভুটান বরাবরই শান্তি একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবেই পরিচিত। বাকি তিন দেশ নেপাল, বাংলাদেশ এবং চিনের মধ্য নেপাল অনেকটাই ভারতপন্থী। ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গী বা বিদেশ নীতি গত ৫ অগাস্টের পর ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে। কিছুটা হলেও দিল্লির ওপর ঘুরিয়ে চাপ বাড়িয়েছ চিন। তিস্তা প্রকল্পে নতুন করে চিনা বিনিয়োগ হয়েছে। তাছাড়া শিলিগুড়ি করিডোর থেকে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের দূরত্ব মাত্র ১৫০ কিলোমিটার। লালমনির হাট বিমানবন্দরে নতুন করে সে দেশের তৎপরতা, তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প এবং বাংলাদেশে নতুন করে চিনা বিনিয়োগ কিছুটা হলেও দিল্লিকে উদ্বেগের মধ্যে রেখেছে। তাই, বাংলাদেশের ওপর পালটা চাপ তৈরি করতে দিল্লি সীমান্তে সেনামহড়া চালিয়েছে। বাড়িয়েছে বাহিনী। কূটনৈতিক ভাষায় এই কৌশলকে বলা হয় ‘গ্রে জোন স্ট্র্যাটেজি।’ এই কৌশলের তিনটি অঙ্গ রয়েছে। প্রথমটি সেনা উপস্থিতি বৃদ্ধি, দ্বিতীয়টি হল সামরিক মহড়া এবং তৃতীয় ও সর্বেশেষটি হল গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক চাপ। প্রশ্ন হল ভারত কি তবে বাংলাদেশের ওপর আক্রমণ চালাবে?
না। কারণ, হামলা হলে ভারতের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হবে। উলটে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী শক্তি অক্সিজেন পাবে। ভেঙে পড়বে কূটনৈতিক ভারসাম্য। পরিবর্তে যুদ্ধ না করেও প্রতিপক্ষকে কৌশলে রাখা যায়। সেই কৌশল হল সীমান্তে লাগাতার মহড়া চালিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি পণ্য-আমদানি রফতানির পথকে কন্টকপূর্ণ করা। এর ফলে প্রতিবেশী রাষ্ট্র চাপে পড়ে যাবে। বাংলাদেশের এখন বাঁচার উপায় প্রথমেই পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের মাখামাখি বন্ধ করতে হবে। সেটা করার পর সে দেশের সেনার সঙ্গে ভারতীয় সেনার যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। তথ্য আদান প্রদান করা। পাশাপাশি চিনের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক আরও স্বচ্ছ রাখাও দরকার বলে মত কূটনৈতিক মহলের।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post