বাংলাদেশে এক আতঙ্কের অধ্যায় ২০২৪ জুলাই বিপ্লব। যার ফলে ৫ই আগস্ট ২০২৪ দেশ ছাড়তে হয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। সেই সময় জুলাই বিপ্লবের নামে তাঁর মাকে হত্যা করার চক্রান্ত করা হয়েছিল এমনটাই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন পুত্র জয়। তিনি আরো জানিয়েছেন ভারত সরকারের কারণেই তা আটকানো সম্ভব হয়৷ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পরে এই প্রথম সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন হাসিনা পুত্র সাজীব ওয়াজেদ জয়৷সাজীব, যাঁকে হাসিনার পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তরসূরী হিসাবে মনে করা হয়, সেই জয় ভারত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘ভারত সবসময় খুব ভাল বন্ধু৷মা হাসিনার সাথে ভারতের এই সুসম্পর্ক মোঃ ইউনুস কোনমতেই ভালো চোখে যে নেয়নি সেটাও তিনি জানান। তাই ইউনুসের চক্রান্তেই আজ এই বিপদের মুখোমুখি হাসিনা। এমনকি জয় জানান ভারত আমাদের পরম বন্ধু কাজেই আমি দৃঢ় বিশ্বাস করি ভারত থাকতে আমার মায়ের কোন ক্ষতি হবে না।
পূর্বে ভারত আমার মায়েরা প্রাণ বাঁচিয়েছে৷ সময়মতো উনি বাংলাদেশ ছেড়ে বেরতে না পারলে সন্ত্রাসীরা মাকে মেরে দিত৷’
সাজীব জানায় আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের কাছ আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব আমার মায়ের জীবন বাঁচানোর জন্য’।জুলাই বিপ্লব চলাকালীন বিক্ষোভকারী ছাত্রদের উপরে নির্বিচারে দমন পীড়ন, হত্যা চালানোর অভিযোগে গত সোমবার শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল৷ এই প্রসঙ্গেও জয় জানায় ইউনুসের পূর্ব পরিকল্পিত সিদ্ধান্তই ঐদিন অর্থাৎ সোমবার ১৭ই নভেম্বর ক্যাঙ্গারু আদালত আউড়ে দিয়েছেন।যদিও এই বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রহসন ছাড়া আর কিছুই মানতে নারাজ হাসিনা পুত্র৷ তাঁর দাবি, বিচার নয়, প্রতিশোধ নিতেই এমন সাজা ঘোষণা করেছে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি এ ও জানান ‘আমার মাকে কোনও আইনজীবী নিয়োগ করতে দেওয়া হয়নি৷ তাঁর আইনজীবীদের আদালতে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি৷ সরকারি আইনজীবী ইউনুসের হয়েই আমার মাকে ফাঁসিয়েছে কাজেই এই বিচার আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মানছি না’এছাড়াও ঘটনাক্রমে সাজা ঘোষণার আগে ১৭ জন বিচারককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ নতুন বিচারক নিয়োগ করা হয়েছে৷ বেঞ্চে এমনও অনেকে ছিলেন যাঁদের বিন্দুমাত্র অভিজ্ঞতা নেই এবং তাঁরা রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট৷ তাই, সেভাবে কোনও নিয়মই মানা হয়নি৷ জয়ের কথা স্পষ্ট এই রায়দান শুধুমাত্র হাসিনা উপর আক্রোশ এমন কি বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে দেওয়ার ইউনূসের চক্রান্ত মাত্র।
অন্যদিকে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পরে নতুন করে নয়াদিল্লির কাছ থেকে হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি জানাবেন বাংলাদেশ৷ তাতে ফের ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে নতুন করে তিক্ততা আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ এদিন এই প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাজীব বলেন, কোনও প্রত্যর্পণ হতে হলে নির্দিষ্ট বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে৷ ওখানে তো কোনও নির্বাচিত, সাংবিধানিক, আইনি সরকারই নেই যা তিনি ইউনুসের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমার মাকে দোষী সাব্যস্ত করতে ওরা আইন বদলেছে, মামলা ফাস্ট ট্র্যাকে এসেছে৷ এই আইন বেআইনি ভাবে বদলানো হয়েছে৷ ভারত হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রসঙ্গে কোনও তথ্য জানায়নি এখনও সরকারি ভাবে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের একাধিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, হাসিনাকে দেশে ফেরাতে এবার ইন্টারপোলের সাহায্য নিতে চলেছে ইউনূস সরকার অর্থাৎ বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকার।বাংলাদেশ সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, বুধবার সে দেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন মহম্মদ ইউনূস। বুধবার মিরপুর সেনানিবাসের ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড ও স্টাফ কলেজ অডিটোরিয়ামে উপস্থিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান ইউনূস জানায় দেশবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে একটি শান্তিপূর্ণ উৎসব এবং আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত করতে আমাদের সেনাবাহিনীর সহায়তা একান্তভাবে কামনা করছি।
অর্থাৎ ইউনূস যে এখন তলে তলে জল মেপে সেনাবাহিনীর সাথে দূরত্ব ঘুচিয়ে হাসিনা তথা আওয়ামী লীগকে বিপদে ফেলতে চাইছে তা স্পষ্ট।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post