বাংলাদেশকে স্বাধীন বাংলাদেশে পরিণত করা শেখ মুজিবর রহমান যেভাবে আত্মবলিদান দিয়েছিলেন সেই একই নিয়তিই কি ঘনিয়ে আসছে মুজিব কন্যা শেখ হাসিনার জীবনে কি হতে চলেছে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে মুজিববাদ শেষ করে হাসিনার দেশে ফেরার পথ মুছে ফেলা হল। ২০১০ সালে ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য যে ট্রাইবুনাল তৈরী করেছিলেন শেখ হাসিনা সেই ট্রাইবুনালই হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করলো। এই ট্রাইবুনালের বৈধতা ও এই রায় কার্যকর কতটা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। আদেও কার্যকর হবে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ডের সাজা
ভারত যদি হাসিনাকে ফেরত না দেয় তবে বাংলাদেশের ইউনুস ও রাজাকার পন্থীরা জানিয়েছে, তারা জাতিসংঘে যাবে। যদিও ইতিমধ্যেই জাতিসংঘ এই মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণার পরেই বাংলাদেশে আগুন জ্বলতে শুরু করেছে। আওয়ামীলীগের কর্মী – সমর্থক ও সাধারণ মানুষেরা ঢাকা সহ গোপালগঞ্জের মহাসড়ক অবরোধ করে ট্রায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। সাধারণ মানুষ পথে নেমে এই রায়ের বিরোধিতা করছেন।
বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল হাসিনা সহ আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়েছেন। তিনি বলেন, গণহত্যার জন্য দায়ী এমন একজনকে যদি এরপরেও আশ্রয় দেয় ভারত তাহলে তাদের বুঝতে হবে ভারত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষদের সাথে বৈরিতা করছে। ভারতের সাথে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির জন্য ভারতকে হাসিনাকে ফেরত দিতেই হবে। এ প্রসঙ্গে ভারতের তরফে বিদেশমন্ত্রী জয়শংকরের দফতর একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে, ভারত নজর রেখেছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের তরফে শেখ হাসিনাকে দেওয়া রায়ের দিকে। ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার মধ্যে রয়েছে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতা। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী বলেন, এটি একটি বিচার বিভাগীয় এবং আইনি প্রক্রিয়া। এর জন্য দু দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা এবং পরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং এই বিষয়গুলি নিয়ে আমরা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও একসঙ্গে কাজ করার জন্য তৈরি। এই মুহূর্তে এর বাইরে আর কোনও মন্তব্য করা গঠনমূলক বলে আমি মনে করি না।
এরপরেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার মহম্মদ ইউনুস বেজায় চোটে গেছেন। ইউনুস তার সামাজিক মাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছেন, বাংলাদেশ কোর্ট আজ যা বলেছে সেটা শুধু বাংলাদেশই না এটা সবাই জানতে পেরে গেছে বাংলাদেশের বাইরেও। যতই ক্ষমতা থাকে আপনার এই রায় দেখিয়ে দিল কেউ আইনের ঊর্ধে নয়। জুলাই – অগাস্ট আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছেন। তাদের পরিবার এখনও তা সাফার করছে। এই রায়ে মানুষের চোখ খুলে গিয়েছে।
জাতিসংঘের তরফে বলা হয়েছে, এই বিচার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ঘটনায় ভিক্টিমরা ন্যায় পেয়েছে। কিন্তু আমরা মৃত্যুদণ্ড আশা করিনি। তাদের ছাড়াই তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের বিচার হয়ে গেল এটা সুষ্ঠ বিচার নয়। তাই এই মৃত্যুদণ্ডের প্রতি আমরা আপত্তি জানাচ্ছি। আমরা এতে কোনোভাবেই একমত নই। এ ছাড়াও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলিও। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তরফ থেকে বলা হয়েছে, তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের বিচার হয়ে গেল। তাদের পছন্দের আইনজীবী দেওয়ার সুযোগ ছিল না।
ফলে এত কিছুর মাঝে আগামীদিনে কি হয় সে দিকেই চোখ থাকবে সবার।












Discussion about this post