যার বাবা দেশটাকে স্বাধীন বাংলাদেশে পরিণত করলো, যে আস্তে আস্তে ভারত ও অন্যান্য রাষ্ট্রের সহযোগিতায় বাংলাদেশ গড়ছিলেন সেই মুজীব কন্যা শেখ হাসিনার আজ করুণ পরিণতি। হিংসায় উস্কানি দেওয়া, হত্যার নির্দেশ এবং দমনপীড়ন আটকানোর ক্ষেত্রে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা এই তিন অভিযোগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। এই আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। বাংলাদেশের তরফ থেকে হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বারবার চাপ দেওয়া হচ্ছে ভারতকে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিচারের সম্মুখীন হতে ভারত আদৌ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে
২০১৩ সালে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, আদালতের রায়ে প্রত্যর্পণ করানোর মতো অপরাধ করে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এক দেশ অপর দেশের হাতে তুলে দেবে। হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নয়াদিল্লিকে ভার্বাল নোট পাঠিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। মাত্র দুদিনের মধ্যে ওই চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের একটি চিঠি তারা পেয়েছেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য এখনই করা যাবে না বলে জানিয়েছিলেন তিনি। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছিল, নয়াদিল্লি ওই চিঠির বৈধতা যাচাই করতে চায়। কারণ, কোনও দেশের অন্তর্বর্তী সরকার যা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় সে অন্য রাষ্ট্রের নির্বাচিত সরকারের কাছে কোনও রাজনৈতিক নেতার প্রত্যর্পণ চাইলে আইনি দিকগুলি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে চলতি বছর অক্টোবর মাসে আবারও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় ভারত। ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী জানান, এটি একটি বিচার বিভাগীয় এবং আইনি প্রক্রিয়া। এটির সঙ্গে আইনি বিষয় জড়িয়ে আছে। উভয় দেশের মধ্যে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর জন্য দু দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা এবং পরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং এই বিষয়গুলি নিয়ে আমরা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও একসঙ্গে কাজ করার জন্য তৈরি। রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, তারা হাসিনাকে ফেরত চেয়ে আবারও ভারতের কাছে চিঠি দেবেন।
ভারত হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে কিনা এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মত, বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির মধ্যে থাকা বেশ কয়েকটি শর্তের জন্যই ভারত হাসিনাকে ফেরাতে বাধ্য নয়। ব্রিগেডিয়ার দেবাশীষ দাস চিন্ময় স্বামীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশের বিচার – ব্যবস্থা খুবই খারাপ অবস্থায়। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে মৌলবাদী সংগঠনের হাতে চলে যাচ্ছে এবং তার লিডারশিপ দিচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। তারা সবাই মিলে চেষ্টা করছে দেশটাকে গভীর অন্ধকারে নিয়ে যাওয়ার। বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের অংশ হয়ে গেছে। ১৯৭১ এর বাংলাদেশের আগের রূপ আমরা দেখতে পারছি। হাসিনাকে ফেরাতে ভারতকে বাধ্য করতে পারবে না বাংলাদেশ। হাসিনাকে বাংলাদেশে গিয়ে ভারত নিয়ে আসেনি। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে হাসিনা ভারতে এসেছেন। যদি ফাঁসি দেওয়ারই হয় তাহলে দেশের মানুষকে দিক যারা ওনাকে আমাদের দেশে পাঠিয়েছিলেন। ভারত একটি শক্তিশালী দেশ। ভারত চীন সহ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গুরুত্ব দেয়নি সে জায়গায় বাংলাদেশের মতো একটা ক্ষুদ্র দেশের চাপে ভারত চলে যাবে না। ভারত তৈরী। ভারত এখন আর বাংলাদেশকে সেই বন্ধু বাংলাদেশ আর ভাবছে না। বাংলাদেশের ওপর ভারত কড়া নজর রাখছে। ভারত ছেড়ে কথা বলবে না। বাংলাদেশ যদি সামরিকভাবে কিছু করতে যায় তাহলে বাংলাদেশকে আর একবার টুকরো করা হবে।












Discussion about this post