সবসময় যে যুদ্ধ করতে হবে তার কোনও মানে নেই। অনেক সময় বিনা যুদ্ধেও জয়লাভ করা যায়। গত বছর গণঅভ্যুত্থানের ঠিক প্রাক মুহূর্তে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বঙ্গভবন ছেড়ে ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন, তা নিয়ে ভবিষ্যতে সিনেমা হলেও হতে পারে। সেলুলয়েডে সেই গল্প দারুণ জনপ্রিয় হবে সেটা বলাই বাহুল্য। আবার, একেবারে মাটিতে মিশে যাওয়ার প্রাক মুহূর্তে শেখ হাসিনা এবং তাঁর দল আওয়ামী লীগ যেভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসছে সেটাও কম থ্রিলার নয়। গত বছর ৫ আগস্ট তথাকথিত এক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছিল। এর পিছনে অবশ্য যে বিদেশী শক্তির হাত ছিল, সেটা এথন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। আর সেই কারণেই আওয়ামী লীগ আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসার দোড়গড়ায় দাঁড়িয়ে।
মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি একজন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা ছিল, অথচ তিনি পালিয়ে বহাল তবিয়তে ফ্রান্সে বসবাস করছিলেন। মুহাম্মদ ইউনূস যিনি প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন ও তাঁরা স্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনের অত্যন্ত ঘনিষ্ট। তিনি ডোমোক্রান্টদের ঘনিষ্ট হওয়ায় পূর্বতন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনেরও কাছের মানুষ। অনেকেই বলেন, তাঁর নোবেল জয়ও ছিল এক বড় উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আগাম পুরস্কার। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশের রিজিম চেঞ্জ ছিল সেই উদ্দেশ্য। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান পার্টির উত্থান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া মুহাম্মদ ইউনূসকে চাপে ফেলেছিল। তবুও মার্কিন ডিপ স্টেটের ডিপ অ্যাসেট মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর অন্যতম সাথী খলিলুর রহমানের সৌজন্যে ইউনূসের দাপট অনেকটাই টিকে ছিল। কিন্তু মাঝখানে বাঁধ সাধলো ভারত। ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার কোনও ভাবেই ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে মান্যতা দিতে রাজি হল না। নয়া দিল্লি বরাবরই হাবে-ভাবে বুঝিয়ে দিল এই সরকারকে তাঁরা পাত্তা দিচ্ছে না। ফলে পশ্চিমা দেশগুলিও আতান্তরে পড়ল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও চাপে পড়ল, কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতির সুযোগ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়া ও চিনের মধ্যে একটি অলিখিত জোট তৈরির দিকে ঝুঁকে যান। আর এটাই মার্কিন ভিত নাড়িয়ে দিল। ফলে দ্রুত বদলাতে শুরু করলো দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি। এরমধ্যেও কয়েকটি গোপনীয় ঘটনা ঘটে গেল বাংলাদেশে। আবার এরমধ্যেই ভারতে সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের মাটিতে সংগঠিত করলো অপারেশন সিঁদূরের মতো জবরদস্ত অভিযান। তাতে মার্কিন প্রভাবের উপরও প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেল। বেগতিক দেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটতে শুরু করল দক্ষিণ এশিয়া থেকে। সম্প্রতি তুলসী গ্যাবার্ডের মন্তব্য তারই প্রমান।
এমনই এক সন্ধিক্ষণে ভারতের আশ্রয়ে থাকা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আচমকা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি একের পর এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে শুরু করেছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটা ভারত সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। তার মানে ভারত হাসিনাকে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় মুখ খোলার শুধু ছাড়পত্রই দেয়নি, যাবতীয় ব্যবস্থাও করে দিয়েছে। আর এটা একদিনে হয়নি, ভারত এই পরিপ্রেক্ষিত ধীরে ধীরে তৈরি করেছে। কারণ, মুহাম্মদ ইউনূস বরাবরই পশ্চিমা বিশ্বে জনপ্রিয় একটি নাম। তাঁর জনপ্রিয়তার কাছেই হার মেনেছিলেন শেখ হাসিনা। এবার ইউনূসের মুখোশ খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে কি কারণে এসেছেন, কি কি কাজ করেছেন, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি কিভাবে ধ্বংস করেছেন তার রিপোর্ট এবার বিশ্বের তাবড় তাবড় সংস্থাই প্রকাশ করতে শুরু করেছে। বিশ্বব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে আইএমএফ, জাতিসংঘ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি একে একে মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। যা কার্যত শেখ হাসিনার জন্য একটা রাস্তা খুলে দিচ্ছিল। আর সেই রাস্তা দিয়েই এবার আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চাইছে। কারণ, ইতিমধ্যেই গোটা বিশ্বই কার্যত দাবি তুলছে, আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা আসলে গণতন্ত্রের উপরই কুঠারাঘাত। আর হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া এবং বাংলাদেশের কণ্ঠরোধ করার প্রকাশ্য ফতোয়া জারি করে মুহাম্মদ ইউনূস আরও একঘরে হয়ে পড়ছেন বিশ্ব রাজনীতিতে। এবার আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে সময় লাগবে না বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একটা বড় অংশ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post