লাগাতার বিক্ষোভ, আন্দোলন, মিটিং, মিছিলে গত বছর উত্তাল হয়ে উঠেছিল প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে। গণ আন্দোলনের জেরে পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে গেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা। এই আন্দোলনের প্রধান মাস্টারমাইন্ড ছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামান হাসিনাকে গদি থেকে সরিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন কি ওয়াকারই তিনিই কি হাসিনার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তার পিঠে ছুরি মেরেছিলেন তিনিই কি পরিবেশ শান্ত আছে বলে হাসিনাকে পরিস্থিতির নাগাল পেতে দেন নি তিনিই কি জনগণকে উসকে গণ আন্দোলন সংঘটিত করেছিলেন তিনিই কি ষড়যন্ত্র করেছিলেন হাসিনাকে গণভবনে শেষ করার
গণ অভ্যুত্থানের পিছিনে সরাসরি যুক্ত থাকার হাসিনার সন্দেহের তালিকায় তারই ঘনিষ্ট বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামান। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা গত বছর ভয়ঙ্কর ৫ ই আগস্টের দিন ঠিক কি হয়েছিল তার বিবরণ দেন। তিনি বলেন, আগস্টের শুরুতে দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হলেও হটাৎই সহিংস জনতার নেতৃত্বে উগ্রপন্থী আন্দোলনকারীদের অবনতি ঘটাতে বাধ্য করা হয়। সিভিল সার্ভিস চাকরির কোটা নিয়ে প্রাথমিক ছাত্র বিক্ষোভের থেকে অনেক দূরে ছিল। এর পিছনে ছিল গভীর ষড়যন্ত্র। তিনি আরও বলেন, ৩ রা আগস্ট ২০২৪ সেনাপ্রধান ওয়াকার হাসিনাকে জানান হাসিনার নির্দেশে তিনি আর কাজ করবেন না। সরকারের নির্দেশ না মেনে সেনাবাহিনী নিজেদের মতো কাজ করবে। সেনার উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের সাথে গোপন বৈঠক করেছিলেন ওয়াকার কিন্তু তা দূর দূর অবধি জানতেন না শেখ হাসিনা। অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আপনি চিন্তা করবেন না বলে হাসিনাকে বারবার আশ্বাস দিয়ে গেছিলেন ওয়াকার উজ্জামান। কিন্তু তা না হয়ে বেড়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশের উত্তাপ। ৪ ঠা আগস্ট গভীর রাত পর্যন্ত সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সাথে গণভবনে ৫ ই আগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি কিভাবে ঠেকানো যাবে তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। সেই বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন জেনারেল ওয়াকার। এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে ওয়াকার বহু জায়গায় একাধিক মিটিং করেছিলেন। ওয়াকারের করা এ সকল মিটিংয়ের কথা শেখ হাসিনা একটুও টের পাননি।
৪ ঠা আগস্টের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ৫ ই আগস্ট বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ্জামানের নেতৃত্বে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে রাখবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ঢাকায় প্রবেশ করার সকল রাস্তায় মোতায়েন করা হবে বাহিনী। কিন্তু হয়েছিল তার ঠিক উল্টো। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতো কাজ করেনি বাংলাদেশের সেনাবাহিনী। সকল সেনাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। ফলে জলস্রোতের মতো জনগণ অবাধে ঢুকে পড়েছিল ঢাকায়। ৪ ঠা আগস্ট সেনাপ্রধান গণভবন থেকে বৈঠক সেরে সেনাভবনে ফিরে দেশের নানান রাজনৈতিক নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে বলেছিলেন ৫ ই আগস্ট গণভবনে আসতে। উত্তাল ৫ ই আগস্টের পরিস্থিতি ওয়াকার নিয়ন্ত্রণ না করে তিনি বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে যে হাসিনার অবর্তমানে বাংলাদেশের গদিতে কে বসবেন তা নিয়ে। গণ অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার যখন অভ্যুত্থান পরবর্তী সহিংস অপরাধীদের দায় মুক্তি দেয় এবং হাসিনার আমলে গঠন করা তদন্ত কমিশন ইউনুস ভেঙে দেয়। এরপরেই হাসিনা স্পষ্ট হয়ে যান যে কি পরিমান ষড়যন্ত্রের শিকার তিনি। এ ষড়যন্ত্র ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। আর এই পূর্ব পরিকল্পিত একমাত্র ষড়যন্ত্রকারী হাসিনার আত্মীয় তথা হাসিনা ঘনিষ্ট সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামান।
তাহলে কি সর্ষের ভিতরেই ভূত যা সকলের নজরের আড়ালে ছিল












Discussion about this post