জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মূলত দুটি অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায় দিয়েছে, ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারপতি গোলাম মোর্তাজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ। তিনি ছাড়া এই আদালতের বাকি তিন সদস্য হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। তাঁদেরও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের সদস্য করা হয়েছে। এই বেঞ্চই শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের শাস্তি ঘোষণা করেছে।
কে এই বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার? যাকে নিয়ে বিতর্ক কম নেই।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, যে স্বপ্নের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, সেই স্বপ্নকে আমরা বাস্তবায়ন করবো। কান্না ভেজা গলায় তাঁর এই কথাতেই রয়েছে এক গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। যা আজ বাস্তবায়নের পথ করে দিয়েছেন বিচারপতি গোলাম মোর্তাজা মজুমদার।
বাংলাদেশের ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার হাসানপুর মজুমদার বাড়ির বাসিন্দা গোলাম মর্তুজা মজুমদার। তাঁর জন্ম ১৯৬০ সালের ১৫ জানুয়ারি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন, এরপর ১৯৮২ সালে বিসিএস পাসের পর বিচার বিভাগে যোগদান করেন। ১৯ বছরের বেশি সময় জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন গোলাম মোর্তাজা মজুমদার। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে জেলা জজ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এই বিচারপতিকে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করে ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর। নিয়োগ করা হয় তাঁকে। ১৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১৯৭৩ সালের আইন নম্বর ২১-এর ধারা ৬-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হল। অর্থাৎ, বিচারপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে কাজ করার অভিজ্ঞতাই নেই। আর এ হেন বিচারপতিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুন্যাল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মামলায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। যা নিয়ে প্রথম থেকেই পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছিল।
যদিও বিচারপতি মুর্তুজার উপর জামাত বা বিএনপি-র কোনও সরাসরি প্রভাব রয়েছে বলে বাংলাদেশের ঘরোয়া রাজনীতিতে অভিযোগ নেই। তবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেই আছে অতীতে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ নিয়ে অতীতে নানা আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। তাতেই জানা গিয়েছে, মুহাম্মদ ইউনূসের আমলেই প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎকার নিয়ে বিচারপতি নিয়োগ করা হয়েছে। তার অন্যতম উদাহরণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের বিচারপতি নিয়োগ। উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি ‘সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এর আলোকে প্রধান বিচারপতিকে চেয়ারপারসন করে সাতজনকে নিয়ে গঠিত হয় ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল। যদিও সে সময় বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের যে অবস্থা ছিল, আমরা ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করছি। আমরা এতে অনেক সংশোধন এনেছি। কিন্তু তাতেও বিতর্ক কমেনি। আওয়ামী লীগের কথা বাদ দিলেও বাংলাদেশের বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আসা রায় নিয়ে অসোন্তোষ প্রকাশ করেছেন।












Discussion about this post