জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছে ওই একই আদালত। সেই সঙ্গে এই দুজনের নামে থাকা বাংলাদেশে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই নির্দেশ আসার পরই তাঁদের কত সম্পদ রয়েছে তা নিয়ে গোটা বাংলাদেশেই চলছে আলাপ-আলোচনা।
গত সোমবার বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফাঁসির সাজা দিয়েছে। সেই সঙ্গে এই মামলার রাজসাক্ষী হাসিনার আমলের আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে মাত্র পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ওই আদালত। ক্ষমতা হারানোর পর বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালত ও থানায় আরও ৫৮৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেই খবর। এর মধ্যে কয়েকটি আবার ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল বা আইসিটি-তে। যদিও ট্রাইবুনাল রায় শোনানোর অল্প কিছুক্ষণ পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়ে এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশে ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ হওয়া শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ। তাঁরা এই রায়কে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে। সেই সঙ্গে আওয়ামী নেত্রীর দাবি এটা ক্যাঙ্গারু কোর্টের রায়। আওয়ামী লীগ পাঁচ পাতার এক বিবৃতিতে বলেছে, দলনেত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াটা আদতে ‘আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিস্ক্রিয় করার একটি কৌশল’। এই বিতর্ককে ছাপিয়ে যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা হল, হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করলে বাংলাদেশের সরকারি কোষাগারে কত ঢুকবে!
প্রথমেই উল্লেখ করা যেতে পারে, এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সঙ্গে এই রায়ের গভীর তাৎপর্য উপলব্ধি করে অন্তর্বর্তী সরকার সর্ব স্তরের জনগণকে শান্ত, সংযত ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামাল যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন তাতে এই দুজন তাঁদের যে সম্প্ত্তির উল্লেখ করেছিলেন সেটা নিয়েই প্রথমে কথা বলা যাক। ওই হলফনামায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজের নামে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে ভোটে লড়েছিলেন। সেবার তাঁর হলফনামায় ঘোষণায় জানিয়েছিলেন, তাঁর নিজের হাতে নগদ অর্থ ছিল সাড়ে ২৮ হাজার টাকা। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা টাকার পরিমাণ ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। এছাড়া ২৫ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ৫৫ লক্ষ টাকার স্থায়ী আমানতের হিসেব দেখিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি তিনি হলফনামায় তিনটি মোটরগাড়ি দেখিয়েছিলেন, যার মধ্যে একটি উপহারের। বাকি দুটি গাড়ির দাম ছিল সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে শেখ হাসিনার কাছে ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ছিল বলে জানিয়েছিলেন। আর নিজের বাসভবনের দাম ৭ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা দেখিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।












Discussion about this post