গত বছর ছাত্র আন্দোলন ও গণ অভ্যুত্থানের জেরে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ক্ষমতাচুত্য হয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে এসে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর মানবতাবিরোধী নানান অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শুরু হয় বিচার। অবশেষে ১৩ মাস ধরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। এই রায় ঘোষণার ৩ ঘন্টা পরেই ভারত প্রতিক্রিয়া জানায়। এ সম্পর্কে দিল্লি অবগত আছে বলে জানানো হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই রায়ের পর এবার কি শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে ভারত এই রায়ে শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের অবস্থান বদলাবে কি
শেখ হাসিনা ভারতের বন্ধু। তাই শেখ হাসিনার আথিতিয়তার অবস্থান বদলাচ্ছে না দিল্লি। বাংলাদেশের তরফ থেকে বাড়ে বাড়ে হাসিনাকে ফেরত চেয়ে চাপ দেওয়া হলেও হাসিনাকে ফেরত দেওয়া নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত একটুও বদলাচ্ছে না ভারত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারত – বাংলাদেশের প্রত্যপর্ণ চুক্তির জন্য ভারতের হাসিনাকে ফেরত দেওয়া অব্যশই উচিত। ভারত যদি হাসিনাকে না ফেরত দেয় যদি হাসিনাকে এখনও আশ্রয় দিয়ে রাখে তবে টা অবন্ধুসুলভ আচরণ হবে। ভারতের তরফ থেকেও পাল্টা অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। হাসিনা ভারতের বন্ধু হওয়ায় দিল্লি কখনই হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝোলার জন্য বাংলাদেশে পাঠাবে না।
আলজাজিরার তরফ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন শেখ হাসিনা। এ সময় হাজার হাজার মানুষকে জোর পূর্বক গুম করা হয়েছে ও অনেককে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ওই সময় নির্যাতনের ঘটনা সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছিল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অনেককেই বিচার ছাড়াই কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দিল্লির সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্কের কারণে হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে না ভারত বলেছেন ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক শ্রীরাধা দত্ত। তিনি মনে করেন, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দাড়ি টেনেছে।
ভারত শেখ হাসিনার এই রায়কে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করছে। তাই
কূটনৈতিক বোঝা পড়া ছাড়া শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার আর কোনও রাস্তা দেখছেন না আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশ। শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের এই রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়ে যাওয়া ও বাংলাদেশে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় সহমত দুই দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গুলি।












Discussion about this post