দিল্লিতে বুধ-সন্ধ্যায় ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে হায়দরাবাদ হাউজে শুরু হচ্ছে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ। সেই বৈঠকের আগেই ভারতের জেমস বন্ডের সঙ্গে বৈঠক করলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। বাংলাদেশের তরফে এই বৈঠক নিয়ে সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইক’ – এ অংশ নিতে দিল্লি এসেছিলেন তদারকি সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। প্রধান উপদেষ্টা ড. মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি কোনও উপদেষ্টার দ্বিতীয় সফর।
গত বছর অগাস্টে সরকার পরিবর্তনের পর নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশেন বাংলাদেশের তরফ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। ভারতের তরফ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এই বৈঠকের পর দু দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগে নতুন গতি পায়। সেই প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবে গত ডিসেম্বরে ঢাকায় বিদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এর পর এপ্রিলে ব্যাংককে বিমস্টেক সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। তবে মে-জুনে কনস্যুলার সংক্রান্ত আলোচনা এবং বাণিজ্যসচিব পর্যায়ে বৈঠকের জন্য ঢাকার তরফ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও দিল্লি প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
তবে অতীতের সব বৈঠককে ছাপিয়ে গিয়েছে ডোভাল-খলিলুরের বৈঠক। তার সঙ্গত কারণ রয়েছে। এই বৈঠকের কিছুদিন আগে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাব্যুনাল বা আইসিটি) হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। খলিলুর রহমান ইউনূসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। তাই, নিরাপত্তা, দেশের প্রতিরক্ষা বিষয়ে খলিলুরের ন্যূনতম অভিজ্ঞতা না থাকার পরেও তাঁকে নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ দিয়েছেন। আর তাকে দিল্লিতে মুখোমুখি হতে হয়েছে একজন পোড়খাওয়া এবং একসময়ের দেশের শীর্ষ গোয়েন্দাকর্তা অজিত ডোভালের সঙ্গে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লিতে হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন ভারতের এই জেমস বন্ড। অতএব খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে অনেকগুলি বিষয় নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আর সব আলোচনা কিন্তু একজনকে নিয়ে – তিনি বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর অবশ্যই বাংলাদেশের নির্বাচন।
সাউথব্লক কিন্তু ঢাকাকে ঘুরিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, হাসিনাকে তাঁরা এই মুহূর্তে সে দেশের হাতে তুলে দেবে না। অসমর্থিত সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, ডোভালের সঙ্গে খলিলুরের বৈঠকে এই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, খলিলুর রহমান কি ডোভালকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে হাসিনাকে সে দেশের হাতে তুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরী। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ডগ কিন্তু ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে হাসিনাকে এই মুহূর্তে সে দেশে ভারতের ফিরিয়ে দেওয়াটা ঠিক হবে না। ঠিক হবে না এমন একটা রাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেওয়া যে দেশে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের হুমকিরয়েছে। এই প্রসঙ্গে দিল্লি-ওয়াশিংটন প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি উত্থাপন করা যেতে পারে। সেই চুক্তি ইঙ্গিত দেয় দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক বিষয়ে আমেরিকা কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। ফলে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করলে আমেরিকার তরফ থেকে যে কোনও বাধা আসবে না তা বলা যেতে পারে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post