ভোট বড় বালাই। দরকার ওয়াকার-বাহিনীকে। তাই, সেনাবন্দনায় মেতে উঠলেন তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস। তাঁর বক্তব্যকে বন্দনাগান ছাড়া আর কিই বা বলা যেতে পারে। ইউনূসের ভাষণ কিন্তু অনেকগুলো প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। কী বলেছেন, সে দিকে একবার আলোকপাত করা যাক?
প্রথমত তিনি বলেছেন, বাহিনী একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ইউনিট। তাই, একজন শিক্ষার্থী যা করতে পারে, বাহিনী সেটা করতে পারে না। মানে বাহিনী চাইলে তাদের ইচ্ছামতো কাজ করতে পারে না। সত্যি কি তাই? গত জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনে বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল তা সকলের জানা। একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছিল সেনাবাহিনী। সেটা ইউনূস কিন্তু স্বীকার করে নিয়েছেন। তদারকি সরকার প্রধান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী পাশে থাকায় বিগত শাসনের দ্রুত অবসান হচ্ছে। ছাত্র আন্দোলন সাফল্যের মুখ দেখেছে বাহিনীর জন্যই। গত বছর বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই দেশ একটা ভাগ্যবান দেশ। বাহিনী তাদের নেতৃত্বে জনগণের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। ’ তাঁর কথায় বাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই কারণে আমি তাদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করি।
প্রশ্ন উঠছে, সেনাবাহিনী যদি স্বাধীনভাবে কিছু করতে নাই পারে, তারা যদি একটি সুশৃঙ্খল হয়ে থাকে, তাহলে গতবছর জুলাই অগাস্ট আন্দোলনের সময় তারা কেন ছাত্রদের পাশে দাঁড়াল? ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বাহিনী প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অথচ এর আগে বাংলাদেশে অনেক ঘটনাই ঘটেছে। আওয়ামী লীগের ঢাকা শাটডাউন কর্মসূচির কথাই বলা যাক। সেই কর্মসূচি বানচাল করতে সরকারের তরফ থেকে সেনাকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার মানে ইউনূস সরকার যেটা চেয়েছেন বাহিনী সেটাই করেছে। বাহিনী যদি সুশৃঙ্খল হবে, তাহলে জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের সময় তারা বিশৃঙ্খল হয়ে উঠল কেন? এটা ধরে নেওয়া যেতেই পারে সরকারের নির্দেশে তারা শৃঙ্খল ভেঙে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ায়। তাদের এই বিশৃঙ্খল আচরণ নিয়ে কিন্তু তদারকি সরকার প্রধান একটি শব্দ খরচ করেনি। তার কারণও রয়েছে। বাহিনী যদি সেই সময় তাদের আদর্শ পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকত, তাহলে ইউনূস আজ বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদে বসতে পারতেন না। এতোদিন তাঁর গদিতে টিকে থাকাও সম্ভব হত না।
কিন্তু সেনাপ্রধান ওয়াকার ইউনূসের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে বাহিনীর মান সম্মান ভূলুণ্ঠিত করেছেন। সে দেশের সেনাকে মানুষ দশকের পর দশক ধরে শ্রদ্ধার চোখে দেখে এসেছে। জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনে তাদের ভূমিকা এবং তৎপরবর্তী সময়ে তাদের ভূমিকা কিন্তু বাহিনীর মুখে কালি লেপে দিয়েছে। এই বদনাম নিয়েই তাদের অদূরভবিষ্যতে চলতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যার দায় কিন্তু সেনাবাহিনী তাঁর কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারেনি। প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্যার দায় বাহিনী আজও বহন করে চলেছে। প্রশ্ন হল ইউনূস বাহিনী নিয়ে যা বলেছেন, সেটা বাহিনীর জন্য সার্টিফিকেট না কি বদনাম? অনেকের মতে, ইউনূস কৌশলে বাহিনীকে খলনায়ক করে তোলার চেষ্টা করেছেন। তাদের যুক্তি, ইউনূস কোনও পরিকল্পনা ছাড়া চলেন না। বাহিনীকে নিয়ে তাঁর এই সব বক্তব্যের পিছনে গোপন অভিসন্ধি রয়েছে বলেই তারা মনে করছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post