উত্তরপাড়া আশ্চর্যরকমের শান্ত। এরকম শান্ত পরিবেশ সাম্প্রতিক অতীতে দেখা যায়নি।
গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের বুকে ঘটনার ঘনঘটা। হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাব্যুনাল বা আইসিটি)। সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে। বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছেন। কূটনৈতিক সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান গত শুক্রবার সে দেশের ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে তাঁর বাড়িতে দেখা করেন। এত কিছু ঘটছে। অথচ না সেনাপ্রধান ওয়াকারের সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না তার বাহিনীর। তাঁর এই আশ্চর্য নীরবতা একাধিক প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। গত ১৪ নভেম্বর শেষবারের মতো ওয়াকারকে কিছু বলতে শোনা যায়। তারপর থেকে তিনি কিন্তু স্পিকটি নট। কী বলেছিলেন ওই দিন, সেটা এই ফাঁকে একবার খতিয়ে দেখা যাক।
তাঁর এই ভাষণ খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসের এএসসি সেন্টার অ্যান্ড স্কুল আর্মি সার্ভিস কোরের ৪৪ তম বার্ষিক সম্মেলনে। সেখানে তিনি একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছেন। ঠিক আগের দিন রাজশাহী সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের নকিব হলে সে দেশের ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ২০ তম সম্মেলনেও একই বার্তা দেন। প্রশ্ন হল তিনি কোন চ্যালেঞ্জের কথা বলছেন? কারণ চ্যালেঞ্জ তো একটা নয়, একাধিক চ্যালেঞ্জ।
শোনা যাচ্ছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশবাসীর মনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, দ্বীপটি নাকি আমেরিকাকে দিয়ে দিচ্ছে ইউনূস সরকার। আবার পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় আদিবাসীরা সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বও এখন বাংলাদেশ সেনার ওপর। এই সবের মাঝেই আবার ওয়াকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের সম্ভাবনার গুঞ্জন শোনা যায়। আর তাই ওয়াকার কোন ‘চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার’ বার্তা দিচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতুহল তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
ওয়াকার যে রীতিমতো চাপে রয়েছেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তার চাপ আরও বা়ডিয়ে তুলেছে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের বৈঠক। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খলিলুরের সঙ্গে এসেছিলেন বাহিনীর কয়েকজন। এটা বলা কি খুব একটা অসঙ্গত হবে যে সেনাপ্রধান ওয়াকারের দূত হয়ে তাঁরা এ দেশে এসেছিলেন? তারা ডোভালের বৈঠকে না থাকলেও খলিলুরের থেকে অবশ্যই জানার চেষ্টা করবেন যে ভারতের জেমস বন্ড তাঁকে (খলিলুর) কী বার্তা দিয়েছেন? এটা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই তারা সেই বার্তা তাদের হেডস্যারের কানে পৌঁছে দেবেন। তারপর সেনাপ্রধান ওয়াকার তাঁর ঘুঁটি সাজাবেন।
এটা কাকতালীয় কি না তা নিয়ে তর্ক থাকতে পারে। তা হল তাদের সফরের পরে পরে তদারকি সরকার প্রধান বাহিনীর জয়গান গেয়েছেন। বাহিনীকে কাছে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। ভালো ভালো কথা বলেছেন। এক কথায় বাহিনীর মন জয় করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। বলেছেন, নির্বাচন তাদের সাহায্য ছাড়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়। এখন দেখার সেনাপ্রধান কি তাঁর বাহিনীকে নিয়ে তদারকি সরকারের পাশে দাঁড়াবে? এদিকে, কাল ২১ নভেম্বর সেনাদিবস। কী ভাষণ দেবেন জেনারেল ওয়াকার?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post