বাংলাদেশে সেনাশাসন ফিরছে বললে ভুল হবে। ফিরে এসেছে। দরকার সরকারি সিলমোহরের।
সম্প্রতি বাহিনীর সঙ্গে নানা বিষয়ে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই বাহিনীর জন্য তাঁর অন্তরাত্মা কেঁদে উঠল, বুধবার মিরপুরে। শুধু চোখের জল ফেলেই তিনি থেমে থাকলেন না। চোখের জল ফেলার পাশাপাশি বাহিনীর জন্য তিনি গাইলেন জয়গান। বুধবার ১৯ নভেম্বর মিরপুরে সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিসেস কম্যান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে। রাজনৈতিকমহলের একাংশের মতে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি একেবারেই ইউনূসের অনুকূলে নয়। না বাহিনী তাঁর পাশে আছে, না পুলিশের একাংশ। যে কোনও মূল্যে তাঁকে ফেব্রুয়ারিতে ভোট করাতেই হবে। কিন্তু সেনার সাহায্য ছাড়া ভোট হলে আরও বিপদ। তাই, সময় থাকতে থাকতে ইউনূস এখন বাহিনীর মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। মিরপুরে সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিসেস কম্যান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে দেওয়া তাঁর ভাষণের ছত্রছত্রে রয়েছে তার প্রমাণ। কী বলেছেন যমুনার বাসিন্দা?
তদারকি সরকার প্রধান বলেন, ‘নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসছে। ভোট হবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে। আমাদের আবার একবার বাহিনীর সাহায্য দরকার। সাহায্য প্রয়োজন পুলিশের, আইন –শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। একটা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গেলে প্রশাসনিকস্তর থেকে যত ধরনের সাহায্যের প্রয়োজন সেই সব সাহায্য দরকার এই তদারকি সরকারের। ’ বক্তব্যে তিনি গত জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তদারকি সরকার বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান পর্ব থেকে বাংলাদেশ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। এই নির্বাচন হবে সুষ্ঠ, শান্তিপূর্ণ। নির্বাচন হবে উৎসব মুখর। এই নির্বাচন আমাদের সকলের। ’ আপামর বাংলাদেশবাসী ভাগ্যবান জানিয়ে তদারকির সরকার প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ একটা পরিবৃত্তি এবং রূপান্তিরত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে এক নতুন বাংলাদেশের জন্ম হবে। সেনাকে দিয়েছেন ঢালাও সার্টিফিকেট। বলেছেন, ‘বাংলাদেশ অত্যন্ত ভাগ্যবান দেশ। বাহিনীর প্রতিটি শাখা দেশের কাছে, দেশবাসীর কাছে দায়বদ্ধ। ’
বাহিনী পাশে না থাকলে দেশে শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরে আসবে না জানিয়ে, তদারকি সরকার প্রধান বলেন, ‘তাদের জন্য আমরা এগিয়ে যেতে পেরেছি। তাদের জন্য বাংলাদেশের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। সেনাবাহিনী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ’ অভ্যুত্থান প্রসঙ্গ টেনে ইউনূস বলেন, ‘সেনা সদস্যরা এমন পরিস্থিতিতে কী করবে? তারা ছাত্রদের পাশে থাকবে না কি সরকারের পাশে? এই প্রশ্নে বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কিন্তু দেশটার নাম বাংলাদেশ। তাই, সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রধানদের নির্দেশে এবং নেতৃত্বে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ ছিল। আগামীদিনেও দায়বদ্ধ থাকবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ আবার ইউনূসের এই স্তুতিকে একটু বঙ্কিম দৃষ্টিতে দেখছে। তাদের মতে, তদারকি সরকারের ওপর নির্বাচন নিয়ে বেশ চাপ দিয়েছিল সেনাবাহিনী। এবার ইউনূস তাঁর পাশার দান একটু অন্যভাবে চেলে দিলেন। বাহিনীর জন্য কেঁদে ভাসিয়ে, জয়গান গেয়ে এই ইন্টারন্যাশনাল খিলাড়ি উত্তরপাড়াকে বোঝাতে চাইলেন যে গত কয়েকমাস ধরে তারা ভোট ভোট করে দাঁড়কাকের মতো চেঁচিয়েছে। এবার ভোট নির্বিঘ্নে করতে গেলে তাদের সাহায্য নিতে হবে। সুতরাং, তারা যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দেয়, তাহলে ভোট অবাধ ও সুষ্ঠ হবে না। ভোটের নামে হবে প্রহসন। তার দায় বাহিনীর ঘাঁড়ে গিয়ে পড়বে। এবার বাহিনী ঠিক করুক তার কী করবে।












Discussion about this post