এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে সেটা খলিলুর রহমান বুঝতে পারেননি এমনটা নয়। কিন্তু বুঝেও তাঁর কিছু করার ছিল না। কারণ, দিল্লি থেকে এমন একজন তলব করেছে, যার নাম শুনলে মহাশক্তিধর আমেরিকাও ঠকঠক করে কাঁপে। ভদ্রলোকের নাম যে অজিত ডোভাল। সাউথব্লকে যিনি ‘জেমস বন্ড’ বলেই পরিচিত। তাছাড়া দিল্লি না এসে তাঁর কিছু করারও ছিল না। কারণ, ‘কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ’-য়ের এবারের সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে ভারত। অতএব খলিলুরের দিল্লি না এসে উপায়ও কিছু ছিল না। বলা ‘কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ’-এর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সম্মেলনে যোগ দিতে অক্টোবরেই খলিলুরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ডোভাল। উদ্দেশ্য খলিলুর যাতে দিল্লি সম্মেলন এড়িয়ে যেতে না পারেন, তার জন্য তাঁকে সময় দেওয়া হয়েছিল।
ঢাকা কিন্তু খলিলুরের দিল্লি সফর নিয়ে একটি শব্দ খরচ করেনি। তাদের দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা দিল্লি আসছেন না আসছেন না, যদি তিনি না আসেন তার পরিবর্তে সে দেশের হয়ে কে প্রতিনিধিত্ব করবে, তা নিয়েও ঢাকা একটি শব্দ খরচ করেনি। আসলে দিল্লির তরফে এই আমন্ত্রণ তাদের কাছে পালটা চাপ হয়ে দাঁড়ায়। সম্মেলন যে কোনওভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না, সেটা বুঝতে পেরেই ঢাকার তরফ থেকে সরকারিভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে তাদের দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দিল্লি আসছেন। উল্লেখ করার মতো তথ্য হল, খলিলুরের আসার কথা ছিল বুধবার। সে দেশের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সেটাই বলা হয়েছিল। কিন্তু একদিন আগেই তিনি দিল্লি পৌঁছান।
এই বৈঠক নিয়ে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের তরফে বলা হয়েছে, ‘দিল্লিতে আয়োজিত ‘সপ্তম কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ’ সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল গিয়েছে। প্রতিনিধিদল ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিকস্তরের বহু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ সরকারি বয়ানে এ ছাড়া আর কিই বা বলার আছে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকা থেকে হাঁপাতে হাঁপাতে দিল্লি এসেছেন খলিলুর রহমান, সেই প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কয়েকজন পদস্থকর্তা ছিলেন। বোঝাই যাচ্ছে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটা আসলে কূটনৈতিক অ্যাপয়নমেন্ট।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ডোভালের সঙ্গে খলিলুরের বৈঠকে হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর সেটাই স্বাভাবিক। এদিকে আবার অজিত ডোভালকে ঢাকা আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন খলিলুর। সুতরাং এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে, হাসিনা যাতে নিরাপদে সে দেশে ফিরতে পারেন, দেশে ফেরার পর যাতে তাঁর ওপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শাস্তির খাঁড়া নেমে না আসে, সেটা নিশ্চিত করাই এখন ডোভাল এবং সাউথব্লকের একমাত্র লক্ষ্য।
জেমস বন্ডের ব্যাপারে আর একটি মিথ রয়েছে। তিনি ডিজিটাল ভারতের অর্জুন। যেখানেই গিয়েছে, সেখানেই সাফল্য। সুতরাং, তিনি বাংলাদেশ যাচ্ছেন মানে ধরে নেওয়া যেতে পারে অপারেশন সাকসেসফুল হতে চলেছে। আসলে ইউনূসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা না জেনেই অজিত ডোভালকে বাংলাদেশ আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কারণ, ঢাকা কিন্তু মহাসঙ্কটের মধ্যে দিয়ে চলছে। এই অবস্থায় অজিত ডোভালের ঢাকা আসা মানে বাংলাদেশ ভারতের ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গী বদলাতে বাধ্য হবে। শেখ হাসিনা ইস্যুতেও দিল্লি কৌশল পরিবর্তন করতে পারে। খলিলুর রহমানকে সেই বার্তাই দিতে চলেছে ডোভাল। এমনটাই মত আন্তর্জাতিক মহলের। তৃতীয় এবং সর্বশেষ ঝুঁকি বাংলাদেশের নিরাপত্তা কাঠামো আরও বেশি ভারত নির্ভর হতে পারে।












Discussion about this post