ডোভাল-খলিলুরের বৈঠকের কাছে হার মানবে যে কোনও থ্রিলার সিরিজ। প্রথমত বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার আসার কথা ছিল বুধবার। তিনি একদিন আগেই দিল্লি চলে আসেন। বৈঠক করেন ভারতের জেমস বন্ডের সঙ্গে। খলিলুরের একদিন আগে দিল্লি পৌঁছে যাওয়া নিয়ে যেমন কৌতুহল তৈরি হয়েছে, কৌতুহল তৈরি হয়েছে ডোভালের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নিয়ে। দুই দেশের দুই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক হল। অথচ কারও মুখে কোনও রা নেই। খলিলুর যেমন ঢাকা থেকে দিল্লি এসেছিলেন মুখে সেলোটেপ লাগিয়ে। দিল্লি থেকে মুখে সেলোটেপ লাগিয়েই তিনি ঢাকা ফিরেছেন। এই বৈঠককে কোনওভাবেই রুটিন বৈঠক বলা যাবে না। কারণ, খলিলুরের দিল্লি আসার কারণ কিন্তু ‘কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভে’-এর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকে যোগ দেওয়া। তাহলে অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করলেন কেন? এটা ধরে নেওয়া কি খুব অসঙ্গত হবে যে ডোভালের সঙ্গে কথা বলার জন্যই তিনি একদিন আগে দিল্লি পৌছোন? এমনকী বৈঠকে হাসিনার প্রসঙ্গ ওঠেনি হতেই পারে না। কারণ, খলিলুরের দিল্লি সফরের সময়টাও বেশ চোখে পড়ার মতো।
তিনি দিল্লি পৌছন মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর। ঠিক তার আগের দিন, অর্থাৎ ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাব্যুনাল বা আইসিটি) সে দেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। হাসিনা রয়েছেন দিল্লিতে। তাঁকে ফেরত পেতে চেয়ে ঢাকা মুখ খুলেছে। ওপার থেকে দিল্লির উদ্দেশ্য এসেছে একপ্রকার হুমকি বার্তা – হাসিনাকে ফেরত দিতেই হবে। আর কয়েকদিন বাদে হয়তো প্রত্যর্পণ চিঠিও চলে আসবে। এই অবস্থায় ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করলেন খলিলুর রহমান। বৈঠক হয়েছে যেমন, খাওয়া-দাওয়াও হয়েছে। খাওয়া আর দাওয়ার মাঝে দেওয়া-নেওয়া নিয়ে কেউ কোনও কথা বলেনি, একি হতে পারে? এদিকে, আবার খলিলুর রহমান অজিত ডোভালকে বাংলাদেশ আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এটা একেবারেই সৌজন্যমূলক আমন্ত্রণ নয়। এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে, খলিলুরের আমন্ত্রণ রক্ষা করতে জেমস বন্ড ঢাকা যাবেন। আর ওই সফর কার্যত দিল্লি-ঢাকার বর্তমান টানাপোড়েনে টার্নিং পয়েন্ট হতে চলেছে।
আরও একটা কারণে খলিলুরের একদিন আগে দিল্লি আসা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। কেল্লা-কাণ্ডে কিন্তু ঢাকা জড়িয়ে গিয়েছে। জাতীয় তদন্ত সংস্থার তরফ থেকে সরকারের ঘরে যে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে, তাতে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। তার পাকাপোক্ত প্রমাণও জাতীয় তদন্ত সংস্থার হাতে রয়েছে। ডোভাল-খলিলুরের বৈঠকে এই নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি, তা হতেই পারে না। খলিলুর রহমান যে প্রতিনিধিদলকে নিয়ে দিল্লি এসেছেন, সেই প্রতিনিধিদলে সে দেশের সেনাবাহিনীর কয়েকজন পদস্থকর্তা ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁরা কেন দিল্লি এলেন? দিল্লিতে কেমন ঠাণ্ডা পড়ে সেটা পরখ করার জন্য যে তাঁরা আসেননি, সেটা বলার দরকার পড়ে না। এসেছিলেন সাউথব্লকের মেজাজ মর্জি বুঝতে। কারণ, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ঢাকা থেকে সাউথব্লকের উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে কথার বোমা। ডোভাল তাহলে কি খলিলুরকে বলেছেন – মুখ বন্ধ রাখা আপানাদের পক্ষে ভালো। অনেক হয়েছে। আর নয়। আর আমার সম্পর্কে নিশ্চই জানেন। আমি অজিত ডোভাল!
এটা ধরে নেওয়া অসঙ্গত হবে না খলিলুর ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশ যে সব পদক্ষেপ করবে তাতে প্রভাব থাকবে দিল্লিতে জেমস বন্ডের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post