আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু কন্যার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এখন আন্তর্জাতিক মহলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ের খবরটি বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলি। এই রায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। মূল প্রশ্ন, আইসিটি-র রায় কি তদারকি সরকার কার্যকর করতে পারবে। আন্তর্জাতিকমহল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা কিন্তু ভারতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তারা দেখতে চাইছে ভারত কী ভূমিকা নিতে চলেছে।
কাতার ভিত্তিক একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই রায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলবে। সেই প্রভাব ইতিবাচক হতে পারে। সেই প্রভাব নেতিবাচক হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদারকি সরকার দেশবাসীকে এই বার্তা দিতে চাইছে যে আগামী নির্বাচনে জনমতের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা দেখাতে চাইছে, তাদের তত্ত্বাবধানে উন্নত বিচারপ্রক্রিয়া সম্ভব। তবে পরিণতি কী হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের পর্যবেক্ষণ হল এই রায়ের ফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হাসিনার ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ হতে চলেছে। পাশাপাশি এই রায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর সংকট তৈরি করতে পারে। তবে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। জানিয়ে দিয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়া একেবারে ত্রুটিমুক্ত নয়। আরও একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে যা তার শাসনামলে বছরের পর বছর ধরে দমনপীড়নের বিরুদ্ধে ক্রোধের মূলে থাকা প্রতিবাদকে সমর্থন করে। আরও একটি আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে এই রায় নিয়ে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ কোর্ট সেন্টেন্সেস ফরমার লিডার শেখ হাসিনা টু ডেথ’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাঁর বিচার হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তাঁর সাজা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এটি শান্তিতে নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতি। যা বিচারের মাধ্যমে পূরণ হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা যেকোনো নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ভারত তাঁকে প্রত্যর্পণ করবে- এটি প্রায় অসম্ভব।
আর একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন জানিয়েছে, শেখ হাসিনার দোষী সাব্যস্ত হওয়াটা ভারতের জন্য জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই রায়ের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে অনুরোধ পাঠাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষণে আরও লেখা হয়েছে, ঢাকা এর আগেও প্রত্যর্পণ চেয়েছিল। কিন্তু ভারত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তিও আছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে- অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হলে ভারত অনুরোধ অস্বীকারের পূর্ণ আইনি অধিকার রাখে।
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে আওয়ামী লীগ নেত্রী দিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। ভারতের রাজনৈতিক পরিসরেও তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে স্পষ্ট অনীহা আছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত এখন এক কূটনৈতিক টানাপোড়েনে আছে। সাউথব্লক এবার কী কূটনৈতিক চাল চালে সেটা এখন দেখার বিষয়।












Discussion about this post