এই নাম ভারতের সব রাজনৈতিক দলের কাছে একটা আবেগ। সে কংগ্রেস হোক বা বিজেপি। সিপিএম হোক বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ। কারও কাছে তিনি দিদি। কারও কাছে তিনি কন্যা। কারও কাছে তিনি বাড়ির মেয়ের মতন। বাংলাদেশ অস্থির হওয়ার পর থেকে তিনি দিল্লির আশ্রয়ে রয়েছে। দিল্লি তাঁর জন্য যেমন থাকার ব্যবস্থা করেছে। ব্যবস্থা করেছে খাওয়ার। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে। ঢাকা হাসিনাকে ফেরতে চেয়ে ইতিমধ্যে গলার সুর চড়াতে শুরু করেছে। সে দেশের প্রশাসন সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার এবার ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হতে চলেছে। প্রশ্ন ঢাকার দাবি মেনে সাউথব্লক কি হাসিনাকে সে দেশের হাতে তুলে দেবে।
হাসিনা বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর পদ্মাপার থেকে এসেছে কড়া বার্তা। বাংলাদেশ বিদেশমন্ত্রক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আর্জি জানিয়ে বলেছে, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কোনও দেশ আশ্রয় দিলে তা ‘অত্যন্ত অ-বন্ধুসুলভ ’ আচরণ বলে গণ্য হবে। সেটা হবে ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। অতএব ভারত যেন দ্রুত হাসিনাকে দ্রুত হস্তান্তর করে। শেখ হাসিনার পরিচয় শুধুমাত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তিনি ভারতের বন্ধু। হাসিনার ওপর এর আগেও একাধিকবার বিপদের খাঁড়া নেমে এসেছিল। তাঁর পাশে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে যায় সাউথব্লক। যেমন এবারও দাড়িয়েছে। আটের দশক থেকে ২০২৪-য়ের ডোভালের অভ্যর্থনা – দীর্ঘ কয়েক দশকের স্মৃতির ভাণ্ডারে রয়েছে বহু ঘাত প্রতিঘাত। এটি আবেগ, আনুগত্য এবং আস্থার ইতিহাস। এই অবস্থায় হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার অর্থ তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া। ভারত কি এই কাজ করবে। সরাসরি না বলা যেতে পারে। প্রশ্ন উঠছে, ভারতের অবস্থা তাহলে কী হতে চলেছে?
ভারত যদি হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়, তাহলে সেটা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর হবে। দিল্লি সেই ঝুঁকি কোনওভাবেই নেবে না। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা কাঠামো সাউথব্লক বিরোধী। তারা সাউথব্লককে সন্দেহের চোখে দেখে। সাউথব্লক তাদের চোখে পুরনো মিত্রের আস্থাভাজন শক্তি, অযাচিত প্রভাশালী শক্তি। এই বিষয়ে ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদ্বাজ জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসিনাকে যদি বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার অর্থ সে দেশের মৌলবাদী শক্তিকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করা। ভারত বিরোধী শক্তিকে বৈধতা দেওয়া। ’ তাই হাসিনাকে প্রত্যর্পণ শুধুমাত্র আইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজনৈতিক অস্থিরতাও সাউথ ব্লককে ভাবিয়ে তুলেছে।
এই অবস্থায় সাউথব্লক থেকে হাসিনার রায় নিয়ে কৌশলী বার্তা দেওয়া হয়েছে। বার্তা একপ্রকার সাবধানীও। যেদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এবং তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, সেদিন সাউথব্লক থেকে জানিয়ে দেওয়া হল, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ভারত দেখেছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতা-সহ বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থরক্ষায় ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্যে সবার সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক স্থাপনে ভারত সচেষ্ট থাকবে।’ এই বক্তব্যের মধ্যে কিন্তু হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে একটি শব্দ খরচ করা হয়নি।












Discussion about this post