এ যেন চুপচাপ ফুলে ছাপ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার দিন তদারকি সরকার প্রধান চট্টগ্রামের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল এবং ঢাকার কাছে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনালের দায়িত্ব দীর্ঘ মেয়াদে দুই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া দিল। পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনারের দেখভালের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে সুইৎজারল্যান্ডের লজিস্টিক কোম্পানি মেডলগের হাতে। এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মেডলগের বাংলাদেশের শাখা সংস্থা ‘মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড’-য়ের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি অনুসারে তাদের হাতে বন্দর দেখভাল ও পরিচালনার দায়িত্ব থাকছে ২২ বছর। চুক্তি অনুসারে লালদিয়া বন্দরের জন্য সংস্থা ৬৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। চুক্তির দিন সাইনিং মানি হিসেবে সরকারের হাতে ‘উপহার’ হিসেবে তুলে দেওয়া হয় ২৫০ কোটি টাকা। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই লালদিয়া বন্দর বছরে আট থেকে ১০ লক্ষ কন্টেনার ওঠানামা করবে। আর প্রতি কন্টেইনার থেকে সরকার পাবে ২১ ডলার। আর আট লাখের বেশি হলে সরকারের ঘরে ঢুকবে ২৩ ডলার। অপর দিকে পানগাঁও বন্দরের জন্য ওই কোম্পানির তরফ থেকে বিনিয়োগ করা হয়েছে ৪৯০ কোটি টাকা। আর ‘সাইনিং মানি’ হিসেবে দেওয়া হয় ১৮ কোটি টাকা। ওই বন্দর থেকে বছরে এক লক্ষ কন্টেইনার ওঠানো-নামানোর লক্ষ্যমাত্র ধার্য করেছে সরকার। প্রতি ইউনিট থেকে সরকার আয় করবে ২৫০ টাকা। প্রশ্ন উঠছে এত তাড়াতাড়ি কেন সরকার এই বন্দরগুলি বিদেশি সংস্থার হাতে তুলে দিল।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নৌপরিবহন মন্ত্রকের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘বন্দর ব্যবস্থাপনার ইতিহাসে দিনটি স্মরণীয় দিন । ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ঢাকার কাছে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত চুক্তিটি বাংলাদেশের লজিস্টিক ও বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। এটি মূল সুফলভোগী হবে মূলত আমাদের স্বপ্নবান তরুণ প্রজন্মের জন্য।’ তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস বাংলাদেশের লজিস্টিক খাতের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে মেডলগ টার্মিনাল চুক্তি।
এদিকে এই চুক্তি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে বিএনপি। দলের প্রবীণ নেতা তথা দলের যুগ্ম সচিব রুহুল কবির রিজভী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘চলতি নভেম্বরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৩জন। সারা দেশে ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার কী পদক্ষেপ করেছে? আপনার সরকার এসব দিকে নজর না দিয়ে শেখ হাসিনার মতো গোপনে চুক্তি করেছে। বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তির করার জন্য আপনাকে বসানো হয়নি।’
সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে জামায়াতে ইসলামি। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং চট্টগ্রাম জোনাল হেড মুহাম্মদ শাহাজান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। আবার দেশের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুও এই বন্দরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে। তাই এই বন্দর নিয়ে তাড়াহুড়ো করে অস্বচ্ছ এবং গোপনে কোনও পদক্ষেপ করার সুযোগ নেই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান সরকার সেটা করেছে। ’
সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন খোদ তারেক রহমান। ইউনূসের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন হাসিনার বিচারের দিনেই কেন তাঁর সরকার বিদেশি সংস্থার সঙ্গে বন্দর নিয়ে চুক্তি করল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post