দিল্লির কেল্লাকাণ্ডে বাংলাদেশ যোগ যে ছিল তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এবার এই নিয়ে ইউনূসের বিরুদ্ধে মুখখুললেন হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, ভারতের একটি সংবাদসংস্থাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে হাসিনা-পুত্র বলেন, ‘লস্কর-ই-তৈবার লোকজন বাংলাদেশে অবাধে ঘুরে বেডা়চ্ছে। দিল্লির বিস্ফোরণের সঙ্গে তাদের যোগ রয়েছে। মা বাংলাদেশে থাকলে জঙ্গিরা ওঁকে খুন করে ফেলত। আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন। এতে ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চিন্তার কারণ রয়েছে। ’
কথা বলেছেন, জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থান নিয়েও। জয়কে প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশে হাসিনা-বিরোধী বিক্ষোভ তৈরি করার পিছনে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-য়ের কতটা যোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। জবাবে হাসিনাপুত্র বলেন, ‘বাংলাদেশে বিক্ষোভের ময় যে সব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল তা এই উপমহাদেশ থেকেই সরবরাহ করা হয়। সে ক্ষেত্রে বড়ো সম্ভাবনা হল পাকিস্তান। পাশাপাশি আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমলে বাংলাদেশ সরকার বদলের পিছনে বিপুল টাকা খরচ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সব থেকে বড়ো বিপদ এখন সন্ত্রাসবাদ ও ইসলামি কট্টরপন্থার উত্থাপন।’ কী বলেছেন হাসিনা পুত্র? বক্তব্যের মূল কথা ৫ অগাস্টের আন্দোলনে ঘি ঢালার ব্যবস্থা করে দিয়েছে পাকিস্তান।
ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে বেশ কিছু তথ্য হাতে পেয়েছি। বাংলাদেশে গত ৫ অগাস্ট যে আন্দোলন হয়েছে তার পিছনে পাকিস্তানের মদত রয়েছে। আইএসআইয়ের বিষয়ে দুটি আমার কাছে রয়েছে। বাংলাদেশে হিংসায় টাকা ঢেলেছে আইএসআই। ৫ অগাষ্টের আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশে ছিল জঙ্গিরা। তাদের হাতে ছিল অস্ত্র। নজর ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবিতে সে সব দেখা গিয়েছে। তাদের আগ্নেয়াস্ত্র চালাতেও দেখা গিয়েছে। আইএসআই – সম্ভবত আগ্নেয়াস্ত্র জুটিয়েছিল।’
জয়ের এই বক্তব্য থেকে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশকে পরিকল্পনা করে অস্থির করা হয়েছে। নাম জড়িয়েছে পাকিস্তানের। কিন্তু পাকিস্তানকে মদত কে দিল? বর্তমানে সে দেশের যা সার্বিক অবস্থা তাতে ইসলামাবাদের একার পক্ষে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। জয় কি তবে ঘুরিয়ে ডিপস্টেটের দিকে ইঙ্গিত করছেন। এই ব্যাপারে হাসিনার অবস্থান কিন্তু একেবারে ভিন্ন।
এর আগেও তিনি ভারতের একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ আমেরিকার ওপর ছেড়ে দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ তৈরি করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে তারা একটি দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সে কারণে তাঁর ওপর চাপ বাড়ছে। হাসিনা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন, যে এই গুলি তিনি মেনে নিলে ক্ষমতা থেকে তাঁকে সরতে হত না।
একটি মার্কিন গণমাধ্যমের তরফে হাসিনা প্রশ্ন করা হয় যে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পিছনে মার্কিন ডিপস্টেট কতটা কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন? বঙ্গবন্ধুকন্যা উত্তর দিয়েছেন বেশ কৌশলে। বলেছেন, ‘আমাদের সব প্রশাসনের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক ছিল। তাই, আমাদের বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনও বিদেশি শক্তি আমাদের ক্ষমতাচ্যূত করতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল।’ কিন্তু জয়ের বক্তব্য কিন্তু বিপরীতমুখী একটি ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।












Discussion about this post