ইতিমধ্যে আমরা জেনে গিয়েছি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ঢাকার তরফ থেকে দিল্লিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সে দেশের বিদেশমন্ত্রক থেকে শুক্রবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে সংক্ষিপ্ত চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। দুইয়ের মধ্যে কী বিষয়ে কথা হয়েছে, তা নিয়ে তেমন কোনও জোরাল সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে একটি সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, জেমস বন্ডের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর হাসিনা এবং আসাদুজ্জামানের প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। সেই প্রসঙ্গে ডোভাল তাঁকে বলেন, ঢাকার তরফে চিঠি এলে সেই চিঠি খতিয়ে দেখা হবে। কূটনৈতিক সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, ঢাকার তরফে চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি কিন্তু এখনও এই নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি।
তবে ঢাকা কিন্তু চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে নেই। ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রত্যর্পণ বিষয়ে অভিজ্ঞ দুইজন ব্রিটিশ আইনজীবীকে ঢাকা তাদের দেশে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই দুই ব্রিটিশ আইনজীবী হলেন টবি ক্যাডম্যান এবং আনাস্তাসিয়া মেডভেসকায়া। এই গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, এই দুই ব্রিটিশ আইজীবী এমেরিটস বিমান সংস্থার বিমানে করে দুবাই হয়ে ঢাকায় পৌঁছন গত ১৯ নভেম্বর। এই দুইজনের মধ্যে টবি ক্যাডম্যান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) আইনজীবী ছিলেন। হাসিনা এবং আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে আইসিটিতে মামলা দায়েরে জন্য অন্তর্বর্তী সরকার যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিল, সেই সময় টবি ক্যাডম্যান তাঁর আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন। তদারকি সরকারকে তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন এই দুইয়ের বিরুদ্ধে তদারকি সরকারকে যদি মামলাই করতে হয় তাহলে তারা হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা দায়ের করুক। ক্যাডম্যানের পরামর্শ অস্বীকার করায় তিনি আইসিটি-য়ের আইনজীবী প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ান। এবার সেই ক্যাডম্যানের হাত-পা ধরতে চলেছে তদারকি সরকার। ক্যাডম্যান এবং মেডভেসকায়াকে ঢাকা আমন্ত্রণের কারণ যে হাসিনা এবং তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের প্রত্যার্পণ নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
এদিকে আবার অজিত ডোভালের সঙ্গে খলিলুর রহমান যেদিন বৈঠক করেন সেদিন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রসচিব নাসিমুল গনি গিয়েছিলেন পাকিস্তান। ভারতের একটি গণমাধ্যমের দাবি সেরকমই। নাসিমুল গনি বৈঠক করে পাকিস্তান সেনার বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্তার সঙ্গে। শোনা যাচ্ছে পাকিস্তানের থেকে জে এফ সেভেন্টিন যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে কটি যুদ্ধবিমান তারা কিনবে, তা এখনও জানা যায়নি। পাকিস্তান চাইছে, হাসিনার অবর্তমানে সে দেশের সেনার সঙ্গে একটি সম্পর্কের সেতু তৈরি করতে। হাসিনা এবং তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যর্পণের বিষয়টি জটিল। সাততাড়াতাড়ি কিছু হবে না। এই সুযোগে বাংলাদেশ সেনার সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করে নেওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশের বিশিষ্ট এক সাংবাদিক ওই গণমাধ্যমকে বলেছেন, আইএসআইয়ের লোকজন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত চষে বেড়াচ্ছে। উদ্দেশ্য সেখানকার বাসিন্দাদের নাড়ির স্পন্দনটা বুঝে নেওয়া। তারা কতটা ভারত বিরোধী বা ভারত বিরোধী হাওয়া তুলতে গেলে কাদের মগজ ধোলাই করতে হবে, সেই সব মস্তিষ্কদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে দিয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা। তারা বাংলাদেশের সেনাকর্তা, প্রশাসনের একাংশ এবং সে দেশের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছে।












Discussion about this post