কিছুদিন আগেও বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে গলা চড়িয়েছে। বিশেষ করে হাসিনা এবং তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে নিয়ে। অজিত ডোভালের সঙ্গে সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের বৈঠকের পর কিন্তু ঢাকা থেকে তেমন কিছু আর শোনা যাচ্ছে না। শুধুমাত্র হাসিনা এবং সে দেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তারা ফেরত চাইছে। যদিও দিল্লি এখনও এই নিয়ে একটি শব্দ খরচ করেনি। দিল্লিতে ডোভালের সঙ্গে বৈঠকের আগে থেকে খলিলুর রহমান বেশ চাপে ছিলেন। বৈঠকের পর সেই চাপ আরও কয়েকগুন বেড়ে গিয়েছে বলে একটা অনুমান করা হয়েছিল। সেই অনুমানে এবার বসল সিলমোহর।
খলিলুর রহমান কাতার গিয়েছেন। গত ২৫ নভেম্বর কাতার এয়ারলাইন্সের বিমানে চেপে তিনি ঢাকা ছাড়েন। ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, তাঁর দেশে ফেরার কথা আগামী ২৮ নভেম্বর। এই নিয়ে চতুর্থবার তিনি কাতার গেলেন। ভারতের ওই গণমাধ্যমটি খলিলুরের কাতার সফরের খবর দিতে গিয়ে জানিয়েছে, তারা এই সফর সংক্রান্ত একটি সরকারি নির্দেশিকা হাতে পেয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সফর নিয়ে বিশেষ কিছু বলা হয়নি। সরকারি বিজ্ঞপ্তির তারিখ ২৪ নভেম্বর। তিনি কাতারে কার কার সঙ্গে দেখা করবেন, কেনই বা কাতার গেলেন তা নিয়ে ওই সরকারি বিবৃতিতে কিছুই নেই। তবে ভারতের ওই গণমাধ্যম জানিয়েছে, কাতারে গিয়ে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
ডোভালের সঙ্গে বৈঠকের পর কেন খলিলুরকে কাতার যেতে হচ্ছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। সূত্রের খবর, দিল্লির বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু কাগজপত্র। ওই কাগজপত্র আসলে ডসিয়ের। সেখানে বলা হয়েছে, সীমান্তের কাছে বাংলাদেশের তিনটি জেলায় ১২টি জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশকে আগেও এই সব জঙ্গি শিবির নিউট্রালাইজ করার কথা বলা হয়েছিল। নোট পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তদারকি সরকার কিছুই করেনি। সূত্রের খবর ডোভালের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশে ফিরে খলিলুর রহমান ওই সব জঙ্গি শিবির অবিলম্বের নিউট্রালাইজ করার পরামর্শ দেন। সেই নির্দেশের অঙ্গ হিসেবে ত্রিপুরা সীমান্তের কাছে কুমিল্লায় বাংলাদেশ সেনা একটি জঙ্গি শিবির নিউট্রালাইজ করেছে। তবে তাঁর কাতার সফরের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভারতের ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোহা থেকে মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থার কর্তারা বাংলাদেশে রেজিম চেঞ্জের পর সে দেশের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য রেখেছে।
আমরা ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছি যে আমেরিকা ইউনূসকে নির্বাচন স্বচ্ছ এবং অবাধ করার কথা বলেছে। একই বার্তা এসেছে জাতিসঙ্ঘ থেকেও। এদিকে ডোভালের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনিতেই চাপে রয়েছেন খলিলুর। সামনেই ভোট। এদিকে আবার হাসিনাকে হাতে ফিরে পাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। এই অবস্থায় আমেরিকা যাতে ঢাকার পাশে দাঁড়ায় সেই অনুরোধ নিয়েই কি খলিলর কাতার গেলেন? সেই সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের তদারকি সরকারের মধ্যে যে চরম ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে, তার নিরিখে তো এটা বলা যেতেই পারে। সেখান থেকে দেশে ফেরার পর খলিলুর রহমান বা তাঁর সরকারের অবস্থান কী হবে, এখন সেটাই দেখার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post