ইউনূসের ফন্দি ভেস্তে গেল। ভেস্তে দিলেন কমনওয়েলথ সচিব শার্লি বাচউয়ি। ‘শান্তিকাকু’ ইউনূসের মনের বাসনা ছিল নির্বাচন হবে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে। তাছাড়া দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। হাসিনা দিল্লিতে। কে দেবে নেতৃত্ব? এদিকে, আবার এনসিপি, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ তানপুরায় নিয়ে সমবেত সঙ্গীত গাইতে শুরু করেছে। তারা বলছে বিএনপিকে কোনও অবস্থায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া যাবে না। শার্লি বাচউয়ি ইউনূস স্যরকে বলেছেন, নির্বাচন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। তিনি ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছেন যে ইউনূসের সরকার চাইছে হাসিনার দলকে বাদ দিয়ে গোলেমালে ফাঁকতালে একটি ভোট করিয়ে নিতে। সেই আশায় জল ঢেলে দিলেন শার্লি বাচউয়ি। জল ঢেলে দিয়েছেন নাহিদ ইসলামের আশায়। এই নাহিদ কিছুদিন আগে বলেছিলেন জাতীয় পার্টিকে ঢাল করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছে।
চারদিনের সফরে কমনওয়েল মহাসচিব বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ এবং চোদ্দ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আওয়ামী লীগের তরফে কমনওয়েলথ সচিবের সঙ্গে কথা বলেন হোসেন চৌধুরী। সুতরাং, এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে বাংলাদেশের উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে মত বিনিময় হয়েছে। হোসেন চৌধুরী কমনওয়েলথ মহাসচিবকে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দল যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, তার জন্য সরকারিস্তরে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের ঘাঁড়ে। সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে কমনওয়েল মহাসচিব রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর উদ্বেগ তদারকি সরকারকেও অবগত করিয়েছেন।
কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বাচউয়ি চার দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে তার আলোচনার কথা রয়েছে। সফরে শান্তি, স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র, সুশাসন ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সহযোগিতা বাড়ানোসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তিনি আলোচনা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় পার্টির এক প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের। ছিলেন দলের মহিসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারি, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, মইনুর রাব্বি চৌধুরী, চেয়ারম্যান উপদেষ্টা মেজর (অব) মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক মাহমুদ আলম। শার্লি বাচউয়ি ছাড়া তাদের প্রতিনিধিদলে ছিলেন আইনি উপদেষ্টা ডা. দিনুষা পণ্ডিত রত্ন এবং সহকারী গবেষণা কর্মকর্তা সার্থক রায়।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাদের শার্লিকে জানিয়ে দিয়েছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণ মূলক নির্বচনের জন্য সবার সমান সুযোগ থাকার কথা। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেটা নিশ্চিত করছে না। ঐকমত্য কমিশন এবং নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পার্টিকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এ এম নাসিরুদ্দিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন শার্লি বাচউয়ি। । বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ করতে এবং সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তাঁর দফতরের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চান কমনওয়েলথ প্রেস সচিব। বৈঠকে ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ। বৈঠকে সব থেকে বেশি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল শার্লি বাচউয়ি বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে জানিয়েছেন, ‘’ট্রাস্ট ইন ইলেকশন সিস্টেম ইজ ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট ( নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসযোগ্য বাতাবরণ অত্যন্ত জরুরী।)












Discussion about this post