ভারতে চাল কেনা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত অনেকটাই এরকম বুদ্ধিতে যার ব্যাখ্যা মেলে না। ভারতের চাল কিনবে। তবে ভারত থেকে নয়, চাল আসবে সিঙ্গাপুর থেকে। মানে ঘুরিয়ে নাক দেখানো। তাদের এই সিদ্ধান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিল। প্রথম প্রশ্ন, ভারত কি তবে বাংলাদেশকে এবার আক্ষরিক অর্থেই ভাতে মারার সিদ্ধান্ত নিয়েছে? সিঙ্গাপুর, দুবাই থেকে চাল কেনার পিছনে ইউনূস সরকারের কি কোনও স্বার্থ রয়েছে? বাংলাদেশের সঙ্গে তো পাকিস্তানের বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। ইউনূস সরকার কি পাকিস্তানের কাছে চাল চাইতে পারত। অথবা পাকিস্তান স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে পারত। কোথাও গেল তারা? এই চাল কেনা প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ কী বলেছেন একবার দেখে নেওয়া যাক।
তিনি বলেন, ‘চালের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। আবার কিছুটা বাড়ছে। অতএব কোনও রকমকে যাতে চালের দাম না বাড়ে সে জন্য আমরা নন বাসমতি চাল আবার আনব।’ সংবাদমাধ্যমের তরফ থেকে অর্থ উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল চাল আসবে কোন দেশ থেকে? কিছুটা হলেও বিরক্তির সুরে তিনি জবাব দিয়েছেন। বলেছেন, ‘নন বাসমতি চালটা আসবে ভারত থেকে। এটা তো প্রতিযোগিতামূলক। সরবরাহকারী কিন্তু সিঙ্গাপুরের। কারণ, আমরা তো বলতে পারব না ভারত থেকে আনবেন না। বা থাইল্যান্ড থেকে আনবেন না। বা মিয়ানমার থেকে আনবেন না। আমরা মান, সময়মতো সরবরাহ আর দামটি দেখছি। ’
চলতি বছর অক্টোবরের শেষে তদারকি সরকার জানিয়েছিল, দুবাই থেকে তারা ৫০ হাজার টন নন বাসমতি চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর জন্য সরকারের খরচ হবে প্রতি টনে ৩৫৫.৯৯ ডলার। বাংলাদেশকে চাল দেবে দুবাইয়ের মেসার্স ক্রেডেন্ট ওয়ান এফজেডই। আর বছরের গোড়ার দিকে কিন্তু বাংলাদেশ সরকার ভারতের থেকে ৫০ হাজার টন চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। প্রতিটন চালের দাম ছিল ৩৫৯.৭৭। তাহলে এমন কী হল যার জন্য তদারকি সরকারকে ভারতের চাল কিন্তু হচ্ছে দুবাই বা সিঙ্গাপুর থেকে? ২০২২-২৩ সালে ভারত কিন্তু বাংলাদেশকে চাল দিয়েছিল ১১.১ বিলিয়ন ডলারের চাল। পরের বছর আরও ১০ বিলিয়ন ডলারের চাল ঢাকাকে দিয়েছিল দিল্লি।
তদারকি সরকারের তরফ থেকে কী যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে? প্রথম যুক্তি ট্রেড ইমব্যালেন্স। ট্রেড ইমব্যালেন্স মানে হলো একটি দেশের রপ্তানি ও আমদানির মধ্যে আর্থিক মূল্যের পার্থক্য। এটি তখন ঘটে যখন একটি দেশ ক্রমাগতভাবে তার রপ্তানির চেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে (ট্রেড ডেফিসিট বা বাণিজ্য ঘাটতি), অথবা রপ্তানি আমদানির চেয়ে বেশি হয় (ট্রেড সারপ্লাস বা বাণিজ্য উদ্বৃত্ত)। প্রথম কথা বাংলাদেশে এমন কী উৎপন্ন হয়, যা ভারতের তৈরি হয় না। তাহলে দিল্লি সে দেশ থেকে কী ধরনের পণ্য কিনবে?
দ্বিতীয় যুক্তি ফরেন এক্সচেঞ্জ অপটিমাইজেশন। বাংলাদেশ সরকারের তরফে বলা হয়েছে, দুবাইতে কর্মরতদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম। তারা কাজ করে দুবাইয়ের অর্থনীতি চাঙ্গা করছেন। বাংলাদেশ সেই টাকা ঘুরপথে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তৃতীয় ট্রেড ডাইভারসিফিকেশন। বাংলাদেশ সরকার বোঝাতে চেয়েছে তারা ভারতের নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছে। কিন্তু তারা তো ভারতের চাল কিনছে হয় সিঙ্গাপুর থেকে না হলে দুবাই থেকে।
তাহলে ব্যাপরটা কী দাঁড়াল?
বুদ্ধিতে যার ব্যাখ্যা মেলে না












Discussion about this post