গত বছর ছাত্র আন্দোলন ও গণ অভ্যুত্থানের জেরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ খুঁইয়ে দেশ ছাড়া হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তথা মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা। ছাত্র ও জনতার আন্দোলনের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ভেঙে ফেলা হয় বঙ্গবন্ধুর মূর্তি সহ হাসিনার বাসভবন। ১৫ বছর শেখ হাসিনার দখলে থাকা বাংলাদেশ ছেড়ে শেখ হাসিনাকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। দেশ ছাড়ার পর তিনি আশ্রয় নেন ভারতে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসেন একজন অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মহম্মদ ইউনুস। যিনি বরাবরই ভারত বিরোধী। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর ইউনূসের তরফে ভারতের কাছে বহুবার হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু বারবার সেই অনুরোধ অনুরোধই থেকে গিয়েছে। ভারত নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। ভারত তার বন্ধু হাসিনাকে ফেরত পাঠায়নি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে থাকা মানবতাবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ ও একাধিক মামলা বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চললেও গত ১৭ ই নভেম্বর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়। এই রায় ঘোষণার পর জামাত, বিএনপি, এনসিপি সহ বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি ও ইউনুস পন্থীরা চরম উল্লাসে মেতে ওঠেন। এই রায় ঘোষণার পর রায়ের বিরোধিতা করেছে ভারত, জাতি সংঘ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ গুলি। রায় ঘোষণার পর আওয়ামীলীগের নেতা – কর্মী – সমর্থকেরা বিষাদে ভেঙে পড়লে আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনা তার দলীয় কর্মী – সমর্থকদের আশ্বাস দিয়ে বলেন আপনারা ভেঙে পড়বেন না। রাজনীতিতে এরকম সময় আসে। চিন্তা করবেন না। আমি বাংলাদেশে ফিরব।
এরপর হাসিনাকে দেশে ফেরত পেতে ও ফাঁসি কাঠে চড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইউনুস সরকার। তাদের তরফ থেকে হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে একটি নোট ভার্বাল ও পাঠানো হয়েছিল। ভারত বাংলাদেশের সাথে বাক্য ব্যায় করতে না চেয়ে খুব সংক্ষিপ্ত আকারে উত্তর দেয়। উত্তরের মধ্যে ভারত বুঝিয়ে দেয় যে, ভারত জানে কাকে কখন ফেরত দেওয়া উচিত। ভারত ঠিক করবে ভারত তার বন্ধু হাসিনাকে ফেরত দেবে কি না।
এরপর বাংলাদেশের তরফে বলা হয় ভারত যদি হাসিনাকে ফেরত না দেয় তাহলে তা হবে অত্যন্ত্য অবন্ধু সুলভ। ভারতকে ফেরত দিতেই হবে শেখ হাসিনাকে। ইন্টারপোলে রেড কর্নার নোটিশ জারি করা হচ্ছে। এরপর ভারতের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান নির্দিষ্ট সময়ের একদিন আগেই দিল্লি সফরে চলে আসেন। সেখানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেমস বন্ড অজিত ডোভালের সাথে তার বৈঠক হয়। বৈঠকে অজিত ডোভাল বাংলাদেশের বার বাড়ন্ত নিয়ে ২৫০ পাতার তথ্য প্রমান তুলে দেন খলিলুরের হাতে। সাথে হুঁশিয়ারি দিয়ে শোনানো হয় বাংলাদেশের সাবধান বানিও।
১৫ মাস ধরে ইউনূসের আমলে অতিষ্ট হয়ে ঢুকছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষ এখন বলছেন হাসিনার আমলই ভালো ছিল। হাসিনা ফিরে আসুক। বিশ্বাসঘাতক সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামান ও এখন চাইছেন হাসিনা দেশে ফিরুক।












Discussion about this post