বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে এবার সে দেশের হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হল। আসন্ন নির্বাচন বানচাল করতে বাংলাদেশের এক শ্রেণির মানুষ যে উঠে পড়ে লেগেছে তা আগেই বোঝা গিয়েছিল। এবার সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হল বাংলাদেশ কংগ্রেস নামের একটি অজ্ঞাতকূলশীল দল। ওই দলের পক্ষে বুধবার রিটটি দাখিল করেন দলটির মহাসচিব আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম। বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, রিটে একইসঙ্গে রুল চাওয়ার পাশাপাশি রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চাওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই টালমাটাল সময়ে এই ধরণের একটি রিট পিটিশন কেন দাখিল করা হল, আর কাদের উস্কানিতে এই পিটিশন আনা হল? এর পিছনের শক্তি কারা সেটাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বাংলাদেশের সমকাল পত্রিকার প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, আইনজীবী ইয়ারুল ইসলাম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে সব প্রকার সহযোগিতা দেবে। কিন্তু সংবিধান লঙ্ঘন করে প্রতিটি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগকে দেওয়া হয়। নির্বাহী বিভাগ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের চাহিদা মোতাবেক নির্বাচন পরিচালনা করে। ফলে নির্বাচন নিয়ে নানামুখী বিতর্ক তৈরি হয়। তাঁর আরও দাবি, বর্তমানে নির্বাহী বিভাগ তাদের আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা ও দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলেছে। তাদের দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে-এটা কেউ বিশ্বাস করে না। এই অবস্থায় ইসির নিজস্ব লোকবল থেকে সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, বাংলাদেশ কংগ্রেস স্পষ্টতই মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপর ভরসা করতে পারছে না। পিটিশনার দাবি করেছেন, বিচার বিভাগের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনেরও নিজস্ব লোকবল থাকতে হবে। রিটে এর জন্য ‘ইলেক্টোরাল সার্ভিস কমিশন’ গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের প্রশাসন থেকে, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে আধিকারিক নিয়ে কমিশন সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আধিকারিক নিয়োগ করা হয়। এটা বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গেই নাকি সাংঘার্ষিক। সংবিধান অনুসারে নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাহী বিভাগ বা প্রশাসন নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। রিট পিটিশনারের বক্তব্য, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রশাসন তাদের আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা ও দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলেছে। তাদের দ্বারা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে, এটা কেউ বিশ্বাস করে না। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব লোকবল থেকে সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। তাঁর দাবি, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনের সচিবকে অপসারণ করতে হবে। আইনজীবী মহলের মতে, যদি বাংলাদেশ হাইকোর্ট এই সংক্রান্ত রুল জারি করে এবং এই মামলার শুনানি শুরু হয় তাহলে নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে যাবে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, বাংলাদেশের নির্বাচন পিছিয়ে দিতে বা আপাতত স্থগিত করতে একটি শক্তি এমনিতেই তৎপর ছিল। এর জন্য নানা ধরণের পায়তারা কষা হচ্ছিল। এবার হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আরও ঘনিভূত হল।












Discussion about this post