রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুদিনের সফরে ভারতে আসছেন। এই সফরের দিকে কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে গোটা বিশ্বের কূটনৈতিক মহল। এর কারণ পুতিন ভারতে আসার আগেই রাশিয়ার পার্লামেন্ট ভারতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এক সামরিক চুক্তির অনুমোদন দিয়ে দিল। বলা হচ্ছে, এই চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের সামরিক বাহিনী একে অপরকে লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট দেবে, অর্থাৎ এক দেশের বাহিনী অপর দেশে গিয়ে সামরিক পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে। আরও সহজ ভাষায় বলতে গেলে ভারত যদি কোনও কারণে যুদ্ধে জড়ায় তাহলে রাশিয়া সর্বশক্তি নিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে যাবে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, ভারতের কি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে? হলে কার সাথে যুদ্ধ হতে পারে?
পহেলগাঁও হামলার মতোই দিল্লি বিস্ফোরণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং হুশিয়ারি দিয়েছিলেন এর পিছনে যে বা যারাই থাকুক ভারত ছেড়ে কথা বলবে না। তদন্তে পাকিস্তান তুর্কির পাশাপাশি বাংলাদেশের যোগ পাচ্ছেন এনআইএ তদন্তকারীরা। এ ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ভারত অপারেশন সিঁদূরের মতোই একটা বড় ধরণের অভিযান চালাতে পারে। সেটা পাকিস্তানের পাশাপাশি এবার বাংলাদেশও হতে পারে। যেটা জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের ১২-১৩টি জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ঠিকানা-সহ যাবতীয় তথ্য প্রমান ইতিমধ্যেই নয়া দিল্লি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের হাতে তুলে দিয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদতে চালু হওয়া ওই জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলি নিষ্কৃয় করার দাবিও জানিয়েছে ভারত। এই আবহে যদি বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূস প্রশাসন কোনও যথাযথ ব্যাবস্থা না নেয় তাহলে ভারতই ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একটা বড় অংশ। অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ক্রমেই ভারতের জন্য বিপজ্জনক এক রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। গত পনেরো মাসে বাংলাদেশ কার্যত পাকিস্তানের বশবর্তী হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের প্রশাসন থেকে সেনাবাহিনী, সব জায়গায় পাকিস্তানের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে ঘনঘন পাক সেনা জেনারেল থেকে শুরু করে আইএসআই কর্তাদের যাতায়াত এবং পাকিস্তানের মন্ত্রী ও শীর্ষ আমলাদের আনাগোনা কোনও এক অশুভ আঁতাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমনকি এটাও জানা যাচ্ছে, ঢাকাতে পাক গুপ্তচর সংস্থা পাকাপাকিভাবে তাঁদের কার্যলয়ও খুলে ফেলেছে। এখানেই শেষ নয়, পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক শীর্ষ জঙ্গি নেতার অবস্থান এই মুহূর্তে বাংলাদেশ। তাঁদেরও তালিকা ভারত তুলে দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে। কিন্তু এরপরও চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ এলাকায় একটি ইসলামিক সভা থেকে প্রকাশ্যেই উঠল পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান।
ভাইরাল ভিডিও
অর্থাৎ, ভারতের আশঙ্কাই ধীরে ধীরে সত্যি প্রমানিত হচ্ছে এটা বলাই যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের ইউনূস সরকার কার কার পরামর্শে এত লাফালাফি করছে? উত্তরটা সহজ, পাকিস্তান ও তুর্কির প্রত্যক্ষ মদত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের উপর। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বদলে যাওয়া ভূ-রাজনীতিতে এখন কার্যত পিছু হটছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে কার্যত সম্মুখসমরে চলে আসা ওয়াশিংটন, এখন পিছিয়ে আসার উপায় খুঁজছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুর নরম হয়ে গিয়েছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক চ্যানেলে ভারতের ক্ষতে প্রলেপ দিতে ব্যস্ত হোয়াইট হাউস। রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে যিনি ভারতকে ক্রমাগত হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছিলেন, রাশিয়ার থেকে অস্ত্র কেনা ও বাণিজ্য করা নিয়ে যিনি ক্রমাগত উষ্মা প্রকাশ করছিলেন। সেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে ঝামা ঘষেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির পুতিনকে স্বাগত জানাতে লাল কার্পেট বিছোতে শুরু করেছে নয়া দিল্লি। অপরদিকে ক্রেমলিনও ভারতের জন্য উপহারের ডালি সাজিয়ে তৈরি রয়েছে। দীর্ঘদিনের দুই বন্ধু দেশ যে একে অপরকে ছাড়তে নারাজ সেটা বুঝে গিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে মার্কিন শুল্কের চাপ, নিষেধাজ্ঞা সবকিছুই উপেক্ষা করে রাশিয়া ও ভারত পাশাপাশি দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশ পড়েছে চাপে। কারণ, তাঁরা যাদের হাত ধরেছে সেই পাকিস্তান এখন দেউলিয়া হওয়ার দোরগোড়ায়। জানা যাচ্ছে আইএমএফের ঋণ মেটাতে শাহবাজ শরীফ সরকার এখন পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স বিক্রি করে দেওয়ার জন্য দরপত্র ডাকতে চলেছে। তবে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সমস্যা তাঁদের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনীর। তিনি চাইছেন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হতে। চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্স নামে একটি নতুন পদ তৈরি করে তিনি ক্ষমতার শীর্ষে নিয়ে যেতে মরিয়া। পাকিস্তানের পার্লামেন্টে সেই আইন পাস হলেও স্বাক্ষর করেননি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। তিনি নাকি পালিয়ে পালিয়ে বেরাচ্ছেন। অর্থাৎ, যে পাকিস্তানের ডানায় ভর করে উড়তে চাইছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস, সেই পাকিস্তানের ডানাই এখন কার্যত ছাঁটতে শুরু করেছে পশ্চিমা দেশগুলি, বিশেষত আমেরিকা। তাই ভারত বলতেই পারে তোরা যুদ্ধ করে করবি কি তা বল?












Discussion about this post