ম্যাডাম জিয়া কি বেঁচে?
সরকারিভাবে এই নিয়ে কিন্তু কোনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে কোনওভাবে উড়িয়ে দিচ্ছে না। প্রথমত জিয়াকে রাখা হয়েছে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার সেই হাসপাতালের ঠিক কাছেই একটি মাঠে বাংলাদেশ সেনা এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টারকে টেক অফ এবং এবং ল্যান্ড করানো হয়।
হাসপাতালের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। তাদের সঙ্গে রয়েছে স্পেশ্যাল সিকিউরিটি ফোর্স। ইতিমধ্যে জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ সেনার তিন শাখার প্রধান। সেনার জনসংযোগ দফতর থেকে এই খবর দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, স্থলসেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল মহম্মদ নাজমুল হাসান বুধবার জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, রাত ৯টা নাগাদ তাঁরা হাসপাতালে গিয়েছিলেন।২০ মিনিট থাকার পর তাঁরা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। একই রাতে জিয়াকে দেখতে গিয়েছিলেন জামাত নেতা তথা দলের প্রধান শফিকুর রহমান।
ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুত্র তারেক রহমান এবং তাঁর স্ত্রী জুবেইদা রহমান ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। জুবেইদা নিজেও কিন্তু পেশায় একজন ডাক্তার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেছে, বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যম এবং একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। তবে জিয়ার এনামূল হক চৌধুরী বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দলনেত্রী একটু সুস্থ হলেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হবে। চিন থেকে চার বিশিষ্ট চিকিৎসক বর্তমানে এভার কেয়ার হাসপাতালে রয়েছেন। এই চার চিকিৎসক হলেন, চি জিয়াং ফাং, ইয়ান সিন, ঝং উহুই এবং মেন হুয়াং উ। বুধবার রাতেই তারা বিমানবন্দর থেকে সোজা চলে যা এভারকেয়ার হাসপাতালে। কথা বলেন জিয়ার চিকিৎসার জন্য তৈরি হওয়া মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে। বিএনপি নেত্রীকে কী ধরনের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে তাঁরা সবিস্তারে খোঁজখবর করেন। জিয়ার চিকিৎসার জন্য লন্ডন থেকে এসেছেন ড. রিচার্ড বুয়েল।
কিন্তু যে প্রশ্ন এখন বাংলাদেশে ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হল আচমকাই তদারকি সরকারের তরফ থেকে বেগমকে কেন কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? কেনই বা বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সেনা এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টারকে টেক অফ এবং এবং ল্যান্ড করানো হল? এর কারণ এটা নয় তো যে সরকারিভাবে জিয়ার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হলে দ্রুত তাঁর দেহ যাতে হাসপাতাল থেকে আকাশপথে নিরাপদস্থানে নিয়ে যায়, তার জন্যই কি এদিনের চপার মহড়া। অনেকেই বলছে, গত ২১ নভেম্বর ম্যাডামকে জোর করে সরকারি অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়। জোর করে বসিয়ে রাখা হয়। কিছু খেতেও দেওয়া হয়েছিল ম্যাডামকে। ঘটনাচক্রে তার পর থেকেই কিন্তু বিএনপি নেত্রী অস্বাভাবিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনা হল, সরকারের তরফে কিন্তু সাততাড়াতাড়ি ম্যাডামের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। যা কিছু করেছে সেটা তাঁর দল। স্বাভাবিভাবেই বিএনপির নেতা থেকে শুরু করে কর্মীরা কিন্তু সরকারে এই ভূমিকায় ভিতরে ভিতরে ফুঁসছে। কোনও অঘটন ঘটলে তারা যে যমুনাভবনের বাসিন্দাকে ছেড়ে দেবে না, তা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post