আরও একবার বলতে হচ্ছে হাইলি সাসপিশাস।
বলার কারণ, গত দেড় মাসে বাংলাদেশে খুন হয়ে গিয়েছেন তিন দেশের বেশ কয়েকজন কোভার্ট অপারেটিভ। তাদের এই রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস রীতিমতো উদ্বেগে রয়েছেন। তল খুঁজে পাচ্ছেন না সে দেশের গোয়েন্দাকর্তারা। এককথা বলা চলে হত্যা হচ্ছে একেবারে চুপিসারে। প্রথম একটি কোভার্ট অপারেটিভের মৃত্যুর ঘটনা প্রথম সামনে আসে গত ২৬ অক্টোবর। ঢাকার একটি বিলাসবহুল হোটেলের ঘর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম টেরেন্স আরভেলে। বয়স ৫০ বছর। হোটেল থেকে তাঁকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশে মার্কি দূতাবাসের কানে দ্রুত তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছে গেলে তারা অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল যে কোনও উপায়ে টেরেন্সের দেহ সরিয়ে ফেলা। তাই, বিনা ময়না তদন্ত ছাড়াই টেরেন্সের দেহ ওই হোটেল থেকে সরিয়ে সোজা আমেরিকা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সেটা হয়েছে অসম্ভব দ্রুত গতিতে। এই রহস্যমৃত্যু নিয়ে আমেরিকা থেকে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। বিবৃতি দেয়নি ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।
একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, গত দেড় মাসে ৩০ জনের বেশি কোভার্ট অপারেটিভ খুন হয়ে গিয়েছেন। এদের মধ্যে ১৭ জন আমেরিকার, সাত থেকে নয় জন পাকিস্তানের, পাঁচ থেকে ছয় জন তুরস্কের। হোটেলের যে ঘর থেকে টেরেন্স আরভেলের দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেই ঘরের ঠিক পাশের দুটি ঘরে দুইজন করে মোট চারজন মার্কিন কোভার্ট অপারেটিভ ছিলেন। তারা দ্রুত সেই হোটেল ছেড়ে একটি সেফ হাউজে আশ্রয় নেন। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। তাদেরও বেঘোরে মৃত্যু হয়েছে। তবে একবারে নয়, ধাপে ধাপে তাদের মেরা ফেলা হয়। একজনের দেহ উদ্ধার হয় কক্সবাজার থেকে, একজনের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে। একজনের দেহ উদ্ধার হয় চট্টগ্রাম থেকে। আরও একজনের দেহ সেই কক্সবাজারে একটি হোটেলের সুইমিং পুলের ধারে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই ঘটনায় হোটেলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। রিচার্ড ড্যানিয়েল রোমান নামে এক মার্কিন কোভার্ট অপারেটিভ প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ ছেড়ে সিঙ্গাপুরে চলে যান। উদ্ধার হয়েছে পাকিস্তানের কোভার্ট অপারেটিভ আহমেদ খানের। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এই আহমেদ বাংলাদেশে আইএসআই এবং পাকিস্তান সেনার হয়ে লিয়াজোঁর ভূমিকা পালন করতেন।
কে মারছে, তা কিন্তু জানা যাচ্ছে না। জানতে পারছেন না তদারকি সরকার থেকে শুরু করে তাঁর কচি সংসদের সদস্যরা। তবে তাঁরা রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পাকিস্তান সরকার, তাদের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং তুরস্ক তলে তলে ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতার ছক কষছে। আর তাদের এই গোপন পরিকল্পনা বিশেষ একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে পৌঁছে গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই কোভার্ট অপারেটিভদের বেছে বেছে তারাই খুন করছে। এই প্রসঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের গাড়িতে প্রধানমন্ত্রী মোদির টানা ৪৫ মিনিট বসে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা যেতে পারে। আর ওই ৪৫ মিনিটের মধ্যেই কিন্তু বাংলাদেশের অভিজাত হোটেলে টেরেন্স আরভেলে নিকেশ করে দেওয়া হয়। আগামী দিনে ওই তিন দেশের আরও কয়েকজন কোভার্ট অপারেটিভের মৃত্যু হল অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post