আচ্ছা, পদ্মার ওপার থেকে কারা যেন বলেছিল ভারতের সেভেন সিস্টার্স দখল করতেই হবে। তার জন্য যে রাস্তায় যাওয়া দরকার মনে হবে সেই রাস্তাতেই যেতে হবে। একা ইউনূস যে কতবার বলছেন, তার হিসেব করা ভারী মুশকিল। দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলেছে, চিনের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলেছেন। সর্বশেষ হুঙ্কার এলো সে দেশের প্রাক্তন এক ব্রিগেডিয়ারের মুখ থেকে। তিনি আবার যেখানে-সেখানে বলেননি। বাংলাদেশের জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে কার্যত ভারতের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে বসে রয়েছেন। বলেছেন, ‘ভারত যতদিন টুকরা টুকরা না হয়ে যাবে কেয়ামত পর্যন্ত তারা বাংলাদেশকে শান্তিতে থাকতে দেবে না। আমাদের গণমাধ্যম, আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গন, আমাদের বুদ্ধিজীবী এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম…. পানি নিয়ে যারা আমাদের বাধ সৃষ্টি করে….,তারা আমাদের বর্ডারে যেভাবে হত্যা করছে… বাণিজ্য বৈষম্য… এসব তো বাদই দিলাম।’ বাদ দিতেই হচ্ছে। এই সব হুমকি শোনার পর বাংলার সেই প্রবাদ বাক্য মনে পড়ে যায় – নিজে পায় না জায়গা শঙ্করারে ডাকে।
বাংলাদেশকে কত শঙ্করাকে আগামীদিনে ডাকতে হবে, তার হিসেব নেই। কারণ, অসম সরকার পদ্মার এই সব শঙ্করাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। অভিযান হয়েছে নওগাঁও জেলায়। বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে তাদের ঘরবাড়ি। অসম সরকার পুনরুদ্ধার করেছে ৭৯৮ হেক্টর জমি। এই উচ্ছেদ অভিযান যে হবে, সে ব্যাপারে আগাম কিন্তু জানিয়ে দিয়েছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। গত ২১ জুলাই তিনি বলেন, ‘গত চার বছরে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে রাজ্য সরকার ১.২৯ বিখা জমি পুনরুদ্ধার করেছে। এখনও ২৯ লক্ষ বিঘা জমি পড়ে রয়েছে।’ গত ৩ নভেম্বর তাঁকে ফের বলতে শোনা গেল ‘রাজ্য সরকার খাসজমি পুনরুদ্ধারের জন্য যে অভিযান শুরু করেছিল, সেই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
এটা যে নিছক ফাঁকা বুলি নয়, তা কিছুদিন আগে রাজ্য সরকারের নেওয়া একটি পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট। নভেম্বর মাসের গোড়ার দিকে রাজ্য সরকার পাঁচ বাংলাদেশিকে শনাক্ত করে। তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে দেওয়া হয়েছিল ২৪ ঘণ্টা। খুব স্পষ্ট ভাষায় তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, ভদ্রলোকের মতো তাঁরা যেন যে দেশ থেকে এসেছিল, সেই দেশে ফিরে যায়। না হলে তাদের জেলের ভাত খাওয়ার ভালোমত ব্যবস্থা করা হবে। রাজ্য সরকারের ওই হুলিয়ার জেরে ২৪ ঘণ্টার আগেই তারা সেখান থেকে সটকে পড়ে। তবে এবার অসমের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে যে অপারেশন চালাল ভারত, তার জন্য বাংলাদেশকে রীতিমতো চাপে পড়ে যেতে হবে। ৭৯৮ হেক্টর জমিতে কতজন বাস করতে পারে, তার একটা আন্দাজ তো সহজেই করা যেতে পারে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার একটি ত্রিভূবন প্রসাদ তিওয়াড়ি কমিশনের একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এই রিপোর্ট তৈরি হয়েছে ৪১ বছর আগে কংগ্রেসের শাসনামলে। সেই রিপোর্টের এক জায়গায় বলা হয়েছে অবৈধভাবে যাঁরা এ দেশে বসবাস করতে চান, তাদের নজরে রয়েছে অসম। যারা অসমের আদত বাসিন্দা নয়, তাদের হাতে কোনওভাবেই স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করা যাবে না। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই উচ্ছেদ অভিযান কি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল? এখান মানবাধিকার থেকে বড়ো প্রশ্ন জাতীয় সুরক্ষা। বলা হচ্ছে, ইউনূসের জায়গায় হাসিনা থাকলে হয়তো অসম সরকার এতটা আগ্রাসী হত না। বাংলাদেশ কিন্তু ভারতের জন্য নিরাপত্তার একটা ঝুঁকি। তাই, দেশকে সুরক্ষিত রাখতে রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ করেছে।












Discussion about this post