মা রীতিমতো অসুস্থ। ছেলে নিজেও জানিয়েছিলেন মাকে দেখতে তিনি বাংলাদেশ আসবেন। সেই সঙ্গে এটাও জানান, বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি পুরোপুরি তাঁর হাতে নেই। এদিকে, সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে সে মাকে দেখতে দেশে আসতে চাইলে দেওয়া হবে ট্র্যাভেল পাশ। সরকার তৈরি, ছেলেও দেশে ফেরার জন্য তৈরি। তাহলে আচমকা কী এমন হল, যার জন্য তিনি নিজে না এসে স্ত্রীকে পাঠিয়ে দিলেন। সেই রহস্যই উন্মোচন করা হবে। তার জন্য একটি পিছনের দিকে হাঁটতে হবে।
কার মা অসুস্থ, সেটা শুধু আমরা নই, গোটা বিশ্ব জেনে গিয়েছে। অসুস্থ বেগম জিয়া। আর মাকে দেখবেন বলে বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তারেক রহমান। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি তাঁর পরিকল্পনা বাতিল করে দেন। এই প্রসঙ্গে একটি তারিখের উল্লেখ করতে হয়। সেটা হল ২১ নভেম্বর। ওই দিন সেনাকুঞ্জে একটি অনুষ্ঠান হয়েছিল। অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ছিলেন বেগম জিয়া। সেখানে তাঁকে কিছু খেতেও দেওয়া হয় বলে শোনা যাচ্ছে। সেখান থেকে ফেরার পর থেকে জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। সরকার কিন্তু চুপ। জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা থেকে শুরু করে সব কিছুই করেছে তাঁর দল। এর মাঝে তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান তদারকি সরকার প্রধান এবং বাংলাদেশ সেনার তিন শাখার প্রধানেরা। এবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে লন্ডন নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জিয়া কিন্তু এর আগেও একবার লন্ডন গিয়েছিলেন। সেটা এই বছরের ৭ জানুয়ারি। ছিলেন ১১৭ দিন। সেখান থেকে ফেরার পর তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। প্রথম দেখা গেল ২১ নভেম্বর। আর সেই ঘটনার পর মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে বেগম রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এক সময় তিনি রীতিমতো সঙ্কটজনক অবস্থায় চলে যান। কার্যত যমে-মানুষে টানাটানি হয়েছিল। এখন তিনি আগের থেকে অনেকটা সুস্থ। আগামী রবিবার তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেবেন। শাশুড়িমাকে দেখতে লন্ডন থেকে বাংলাদেশ চলে এসেছেন তারেক জায়া জুবেইদা রহমান। জিয়ার সঙ্গে যাবেন ছোট ছেলের আরাফত রহমানের স্ত্রী সাইদা শামিলা রহমান, বাংলাদেশের ছয়জন বিশিষ্ট চিকিৎসক, জিয়ার পরামর্শদাতা ইনামুল হক চৌধুরী, স্পেশ্যাল সিকিউরিটি ফোর্সের দুইজন। সরকারের তরফ থেকে জিয়ার জন্য এই দুইজনকে নিয়োগ করা হয়েছে। আর জুবেইদা তো থাকছেনই। প্রশ্ন এখানেই। তারেক নিজে না এসে বউকে একা পাঠিয়ে দিলেন কেন?
প্রথম কথা তিনি পরিষ্কার বুঝে গিয়েছেন, সেনাবাহিনী তাঁকে নিরাপত্তা দেবে না। তাছাড়া বাংলাদেশে একটি গোষ্ঠী এখনও সক্রিয় যাঁরা তারেককে হাতে পেলে হিংস্র হায়নার মতো জ্যান্ত চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে। এই অবস্থায় দেশে ফেরাটা মোটেই নিরাপদ নয়। প্রশ্ন উঠছে কেন জিয়াকে ২১ নভেম্বরের অনুষ্ঠানে জোরজবরদস্তি হাজির করা হল। এর পিছনে ইউনূস সরকারের কোনও চক্রান্ত নেই তো? সম্ভবনা যে একেবারে নেই, তা কোনওভাবে বলা যাচ্ছে না। একটি বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে হাসিনা বাংলাদেশে নেই। রয়েছেন দিল্লিতে। এবার জিয়াকে বাক্সপ্যাঁটরা করে লন্ডনে পাঠিয়ে দিলে সেটা হবে সে দেশের দ্বিতীয় কোনও বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেত্রীকে কার্যত দেশ ছাড়তে বাধ্য করা। তার মানে বাংলাদেশে রাজত্ব করবেন ইউনূস, জামায়াত আর সে দেশের মৌলবাদী শক্তি। সেই উদ্দেশ্যে কতটা সফল হবেন নোবেল ম্যান সেটাই এখন দেখার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post