বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায় পার করছে সে দেশের সাধারণ জনগণ। ২০২৪ ৫ই আগস্ট গণ-আন্দোলনে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতের আশ্রয় এসেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সেই সময় থেকে সেনাপ্রধানের সৌজন্যে বাংলাদেশের সিংহাসনে বসেন মুহাম্মদ ইউনূস। এবং তার পর থেকে গত দেড় বছরে পদ্মা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে আজ ইউনূসের চক্রান্তেই ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক এক গভীর সংকটের মধ্যে দাঁড়িয়ে। তৎকালীন ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিবাহিনীকে সাহায্য করেছিল ভারত। সেই কারণে বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান সহ গোটা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ভারত পুজিত হলেও ইউনূসের কাছে তা নয়। সেই সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এক অন্য মাত্রায় ছিল। তবে বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে ভারত বিরোধী মনোভাব। মৌলবাদ এবং উগ্রবাদের বিশ্বাসী ইউনূস তার প্রধান কান্ডারী । কারণ ইউনূসের আমলেই মৌলবাদী জামায়াতের বারবার অন্তর লক্ষ্য করা যায়। সে দেশে সংখ্যালঘু হিন্দুরা উগ্রবাদী মৌল বাদীদের হাতে আক্রান্ত হয় শুধু তাই নয় হিন্দুদের দুর্গাপুজোও হয় অনেক আতঙ্কের মধ্যে এমনকি প্রতিমা মণ্ডপেও তাণ্ডব করতে দেখা যায় জামায়াত শিবির কে।ক্ষমতায় না থেকেও বাংলাদেশের রিমোট কন্ট্রোল কার্যত জামায়াতিদের হাতেই দিয়ে রেখেছেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস।এই জামায়াত এককালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি। এই সব ইতিহাস কি ভুলে গেছে বাংলাদেশের মানুষ? এই জামায়াতের নেতারাই ছিল একদা রাজাকার। নিজেদের কার্যসিদ্ধির জন্য বাংলাদেশের মানুষকেই নির্বিচারে হত্যা করতে যাদের হাত কাঁপে না সেই জামায়াত শিবির ইউনূসের পরম বন্ধু এবং এই বন্ধুত্বের জোট আজ বাংলাদেশকে রসাতলে নিয়ে যাচ্ছে। তবে এই ইউনূস শিবিরের অত্যাচারের মাঝেও এখনও বাংলাদেশ জন্মলগ্ন থেকে আসল ইতিহাস জানা বহু মানুষ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে তলে তলে। হয়তো সেই ভাবে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে পারছে না কারণ ভয় একটাই ‘গাব্বার আ জায়েগা’অর্থাৎ সেই শান্তিতে নোবেল প্রাপ্ত অশান্তির মাস্টারমাইন্ড ইউনূস। হাসিনা ও তার দল আওয়ামি লিগের অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধের সময় বন্ধু হিসাবে পাশে থাকা ভারতে সেই ইতিহাসই বাংলাদেশ থেকে মুছে দিতে চাইছে ইউনূস সরকার। আর এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ বললেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কে নতুন পটভূমি খোঁজার চেষ্টা করছে ঢাকা।’অর্থাৎ তিনি কি বলতে চাইলেন তা পরিষ্কার না করলেও ভারত বাংলাদেশের যে দূরত্ব তৈরি করে দিয়েছে ইউনূস তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। তবে অবশ্য কলকাতার মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কূটনৈতিকবিদরা বলেন, ‘এমন এক নতুন পটভূমি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে, যেখানে আমরা নিজেদের ভবিষ্যৎ ভাগাভাগি করে নিতে পারব। কথাটা বলা যতটা সহজ আসলে বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন। তবে এটা সম্ভব। আমাদের কিছু ভিন্নমত ও সংবেদনশীল বিষয় আছে। কিন্তু এটাই সম্পর্কের স্বাভাবিক চরিত্র। আমরা যদি পটভূমির কেবল একটি দিক নিয়ে ব্যস্ত থাকি, তাহলে পুরো বিষয়টির প্রতি সুবিচার করা হবে না। বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক এক সুমধুর। দুই দেশই দ্রুত উন্নতি করছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি। দুই দেশের বাণিজ্য প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।’
তবে অবশ্য ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সে বলুক না কেন ইউনুস ক্ষমতায় আশায় ভারত বাংলাদেশ যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে সে দূরত্ব মেতার নয় যদি না ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ ফেরে। আর এই ইউনূস ক্ষমতায় থাকলে তা তো একদমই সম্ভব নয় যে ভারত পূর্বের মতন বাংলাদেশের বন্ধু হয়ে থাকবে। শুধু তাই নয় বাংলাদেশি রাজনৈতিকবিদ এরপর আরও বলেন যে ‘বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দুই দেশের নাগরিকদের সম্পর্ক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এটাকে আমরা পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ক হিসেবে দেখি।’ শুধু তাই নয় এক কদম এগিয়েই বলেন ‘ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের যে সকল মানুষের পূর্বপুরুষদের বাড়ি বাংলাদেশে, তাদের সেখানে যাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি করা হতে পারে।’ অন্যদিকে আবার ২০২৬ শে দিল্লিতে একটি বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনার কথা বলেন বাংলাদেশি হাইকমিশনার। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ভারতে এসে অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এরপরই বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তিনি আবার এক কদম এগিয়ে বলেন ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক শুধুমাত্র হাসিনা ইস্যুতে থেমে থাকতে পারেনা আমাদের এই ইস্যুটির বাইরে এগোতে হবে। কিন্তু সে বাংলাদেশের উপদেষ্টা মহল যাই বলুক না কেন ভারত মৌলবাদী এবং জামায়াতদের জুলুমবাজির মধ্যে থাকা বাংলাদেশের সাথে আগামী দিনে সম্পর্ক ঠিক কতটুকু রাখে আর কতটুকুই বা ত্যাগ করে তা সময় উত্তর দেবে।।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post